খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 12শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ২৪ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
সরকার বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দায়িত্বে থাকা নয়জন সচিব ও সমমানের কর্মকর্তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করেছে। সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পৃথক পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করে। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি প্রশাসনিক কাঠামোয় পুনর্বিন্যাস ও নীতিগত সমন্বয়ের অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে অবসরোত্তর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ সাধারণত নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য প্রদান করা হয়, যা প্রয়োজন ও নীতিগত বিবেচনায় নবায়ন বা বাতিল করা যেতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে সরকার প্রশাসনে গতিশীলতা, জবাবদিহি ও নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল ধারণা করছে।
যাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. মো. মোখলেস উর রহমান, ড. কাইয়ুম আরা বেগম এবং এম এ আকমল হোসেন আজাদ রয়েছেন। এছাড়া মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ, ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউসূফ, জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক সিদ্দিক জোবায়ের, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান এবং বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক শরিফা খানের চুক্তিও বাতিল করা হয়েছে।
নিচে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নাম ও দায়িত্বের সংক্ষিপ্ত তালিকা উপস্থাপন করা হলো—
| ক্রম | নাম | পদবি/দায়িত্ব | প্রতিষ্ঠান/বিভাগ |
|---|---|---|---|
| ১ | ড. মো. মোখলেস উর রহমান | সদস্য | পরিকল্পনা কমিশন |
| ২ | ড. কাইয়ুম আরা বেগম | সদস্য | পরিকল্পনা কমিশন |
| ৩ | এম এ আকমল হোসেন আজাদ | সদস্য | পরিকল্পনা কমিশন |
| ৪ | মমতাজ আহমেদ | সিনিয়র সচিব | মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় |
| ৫ | মোহাম্মদ ইউসূফ | চেয়ারম্যান | ভূমি আপিল বোর্ড |
| ৬ | সিদ্দিক জোবায়ের | মহাপরিচালক | জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমি |
| ৭ | শীষ হায়দার চৌধুরী | সচিব | তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ |
| ৮ | মো. সাইদুর রহমান | সচিব | স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ |
| ৯ | শরিফা খান | বিকল্প নির্বাহী পরিচালক | বিশ্বব্যাংক |
প্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিলের মাধ্যমে সরকার ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে নতুন নেতৃত্ব ও দৃষ্টিভঙ্গি অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে চলমান প্রকল্প ও কর্মসূচির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে দ্রুত নতুন নিয়োগ বা পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
উল্লেখ্য, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ সাধারণত নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য প্রদান করা হলেও সরকার প্রয়োজনবোধে তা সংশোধন বা বাতিল করার সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা রাখে। সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা না থাকলেও প্রশাসনিক মহলে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পুনর্বিন্যাস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এ সিদ্ধান্তের ফলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর শীর্ষ পর্যায়ে পরিবর্তন আসছে, যা আগামী দিনে প্রশাসনিক কর্মকৌশল ও নীতিনির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।