খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬
অ্যানফিল্ডের গ্যালারিতে তখনো ‘ইউ উইল নেভার ওয়াক অ্যালোন’ সঙ্গীতের রেশ কাটেনি, সমর্থকরা সবেমাত্র নিজেদের আসনে থিতু হয়েছেন। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে লিভারপুল যে ঝড়ের প্রস্তুতি নিয়ে নেমেছিল, তার আঁচ পেতে প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট হাম ইউনাইটেডের সময় লাগল মাত্র কয়েক মিনিট। ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অলরেডদের দাপুটে ফুটবলের সামনে খড়কুটোর মতো উড়ে গেল হ্যামারসরা। ৫-২ গোলের এই বিশাল জয়ে প্রিমিয়ার লিগ টেবিলের পাঁচ নম্বরে উঠে এসে চ্যাম্পিয়নস লিগের স্বপ্ন পুনরুজ্জীবিত করল ইয়ুর্গেন ক্লপের শিষ্যরা।
ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজার পর ঘড়ির কাঁটা যখন পাঁচ মিনিটও ছোঁয়নি, তখনই লিভারপুলের গোল উৎসবের সূচনা হয়। কর্নার থেকে উড়ে আসা বল ক্লিয়ার করতে দু-দুবার ব্যর্থ হয় ওয়েস্ট হামের রক্ষণভাগ। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বল জালে জড়াতে ভুল করেননি তরুণ তুর্কি উগো একিতিকে। লিভারপুলের এই জয়ের মূল কারিগর ছিল তাদের নিখুঁত ‘সেট-পিস’। ২৪ মিনিটে দমিনিক সোবোসলাইয়ের কর্নার থেকে আসা বলে দর্শনীয় হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইক। বিরতির ঠিক আগে ৪৩ মিনিটে কর্নার থেকেই তৈরি হওয়া জটলায় লিভারপুলের হয়ে তৃতীয় গোলটি করেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার।
বিরতির পর ওয়েস্ট হামের টমাস সুচেক এক গোল শোধ করলে ম্যাচে কিছুটা উত্তেজনা ফিরে আসে। তবে ডাচ ফরোয়ার্ড কোডি গাকপো দুর্দান্ত এক গোলে লিভারপুলের জয় নিশ্চিত করেন। ম্যাচের শেষ দিকে ওয়েস্ট হামের রক্ষণভাগের ভুলে আক্সেল দিসাসির আত্মঘাতী গোল তাদের বড় পরাজয় নিশ্চিত করে।
এই জয়ের ফলে লিভারপুল ২৮ ম্যাচ শেষে তাদের পয়েন্ট বাড়িয়ে নিয়েছে, যা তাদের লিগ টেবিলের পঞ্চম স্থানে তুলে এনেছে। অন্যদিকে, রেলিগেশন বা অবনমন অঞ্চলে থাকা ওয়েস্ট হামের সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। নিচে ম্যাচের সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান ও লিগ টেবিলের বর্তমান অবস্থান তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | লিভারপুল (বিজয়ী) | ওয়েস্ট হাম (পরাজিত) |
| ফলাফল | ৫ গোল | ২ গোল |
| গোলদাতা | একিতিকে, ফন ডাইক, ম্যাক অ্যালিস্টার, গাকপো, দিসাসি (আত্মঘাতী) | টমাস সুচেক ও ড্যানি ইংস |
| বল দখল | ৬৪% | ৩৬% |
| টার্গেটে শট | ৯টি | ৪টি |
| পয়েন্ট টেবিল অবস্থান | ৫ম স্থান | ১৮তম স্থান (অবনমন অঞ্চল) |
| মোট ম্যাচ ও পয়েন্ট | ২৮ ম্যাচে ৪৮ পয়েন্ট | ২৮ ম্যাচে ২৫ পয়েন্ট |
লিভারপুলের জন্য এই জয়টি ছিল মানসিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। টানা কয়েক ম্যাচের ছন্দহীনতা কাটিয়ে সেট-পিস থেকে তিনটি গোল পাওয়া দলের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে রক্ষণভাগের স্তম্ভ ফন ডাইকের গোল এবং মাঝমাঠে ম্যাক অ্যালিস্টারের ধারাবাহিকতা সমর্থকদের আশাবাদী করছে। আগামী ম্যাচগুলোতে এই জয়ের ধারা বজায় রাখতে পারলে সেরা চারের লড়াইয়ে তারা টটেনহ্যাম বা অ্যাস্টন ভিলার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
অন্যদিকে, ওয়েস্ট হামের কোচ ডেভিড ময়েসের ওপর চাপ এখন চরমে। রক্ষণভাগের শিশুতোষ ভুল এবং সেট-পিস সামলাতে ব্যর্থতা তাদের দ্বিতীয় বিভাগে নামিয়ে দেওয়ার পথ প্রশস্ত করছে। প্রিমিয়ার লিগের টিকে থাকার লড়াইয়ে আগামী ম্যাচগুলোতে পয়েন্ট পাওয়া তাদের জন্য এখন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।