খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬
ঢাকার পল্লবী থানায় আজ রোববার ছোট পর্দার অভিনেতা জাহের আলভী ও তাঁর মা নাসরিন সুলতানা শিউলির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি দায়ের করেছেন ইকরার বড় মামা শেখ তানভীর আহমেদ। অভিযোগে বলা হয়েছে, জাহের আলভী ও নাসরিন সুলতানা দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে ইকরাকে অবহেলা ও মানসিক নির্যাতন করেছেন, যা শেষ পর্যন্ত ইকরাকে আত্মহত্যার পথ গ্রহণে প্ররোচিত করেছে।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম আলমগীর জাহান জানিয়েছেন, “মামলা দায়ের হয়েছে এবং তদন্ত চলমান। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যেই এজাহারের একটি কপি বিমানবন্দরের অভিবাসন পুলিশের কাছে পাঠানো হয়েছে, যাতে দেশের বাইরে থাকা আসামিকে দেশে ফেরার পর দ্রুত গ্রেপ্তার করা যায়।”
ইকরার মৃত্যুর পর প্রকাশিত তথ্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁস হওয়া ব্যক্তিগত চ্যাটগুলোতে দীর্ঘ ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের সমস্যা উঠে এসেছে। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, জাহের আলভীর পরকীয়া এবং মানসিক নির্যাতনের কারণে ইকরা এই চরম সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।
২০১০ সালের ৯ নভেম্বর জাহের আলভী ও ইকরা গোপনে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে এক পুত্রসন্তান রিজিক রয়েছে। মৃত্যুর পর ইকরার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং মরদেহ ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ধীতপুর ইউনিয়নে পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয়েছে।
ইকরার বান্ধবী সামিয়া আলম মন্তব্য করেছেন, “ইকরা আত্মহত্যা করার মতো ব্যক্তি ছিলেন না। যে পরিমাণ মানসিক কষ্ট আলভী দিয়েছেন, সেটাই জানা প্রয়োজন।” অন্যদিকে ইকরার মা রেবেকা সুলতানা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা মনে করছেন, বিবাহ বহির্ভূত জাহের আলভীর সম্পর্কের কারণে ইকরা আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন।
নিচের টেবিলটি মামলার মূল তথ্য ও সম্পর্কিত প্রাসঙ্গিক তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করেছে:
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| মামলা দায়েরকারী | শেখ তানভীর আহমেদ (ইকরার বড় মামা) |
| আসামি | জাহের আলভী (অভিনেতা), নাসরিন সুলতানা শিউলি (মাতা) |
| থানার নাম | পল্লবী থানা, ঢাকা |
| অভিযোগের বিষয় | আত্মহত্যায় প্ররোচনা, দুই বছরের মানসিক নির্যাতন ও অবহেলা |
| বিবাহের তারিখ | ৯ নভেম্বর ২০১০ |
| সন্তান | রিজিক (এক পুত্রসন্তান) |
| মরদেহের সমাহিত স্থান | ধীতপুর ইউনিয়ন, ভালুকা, ময়মনসিংহ |
| ময়নাতদন্ত | সম্পন্ন হয়েছে |
| সামাজিক প্রতিক্রিয়া | ব্যক্তিগত চ্যাট ফাঁসের কারণে আলোচনার সৃষ্টি |
মামলার তদন্ত এখনো চলমান। পুলিশ নিশ্চিত করেছে, দেশের বাইরে থাকা আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া নেওয়া হচ্ছে। ইকরার মৃত্যু এই ঘটনাটি বাংলাদেশের বিনোদন জগতে এক নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করেছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।