খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
ইরানের ওপর সাম্প্রতিক হামলা এবং তার প্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়া উত্তপ্ত সামরিক পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। আজ রোববার প্রদত্ত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তিনি আঞ্চলিক শান্তি রক্ষা ও বেসামরিক মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তবে কৌশলগত কারণে তাঁর এই বিবৃতিতে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকতে দেখা গেছে।
জামায়াত আমির তাঁর বিবৃতিতে উল্লেখ করেন যে, যেকোনো স্বাধীন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন এবং বেসামরিক মানুষের জীবন বিপন্নকারী হামলা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। তিনি বলেন, “আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টকারী যেকোনো হামলার আমরা দ্ব্যর্থহীন নিন্দা জানাই।” যদিও তিনি ইসরায়েলের অস্থিতিশীলতামূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তবে আক্রমণের পেছনে থাকা প্রধান শক্তি যুক্তরাষ্ট্রের নাম উচ্চারণ না করেই তিনি তাঁর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
ইসরায়েল ও পশ্চিমা শক্তির হামলার জবাবে ইরান কর্তৃক প্রতিবেশী দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলারও সমালোচনা করেছেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি মনে করেন, ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর ভূখণ্ডে এ ধরনের পাল্টা হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও অবনতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সংঘাতের বিস্তার কেবল নিরীহ মানুষের দুর্ভোগই বাড়াবে বলে তিনি সতর্ক করেন এবং এ ধরনের পদক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানান।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংকটের প্রধান দিকগুলো এবং জামায়াত আমিরের অবস্থানের একটি সারসংক্ষেপ নিচে তুলে ধরা হলো:
| বিষয়বস্তু | ডা. শফিকুর রহমানের অবস্থান ও মন্তব্য |
| আগ্রাসন ও হামলা | সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনকারী যেকোনো সশস্ত্র হামলার তীব্র নিন্দা। |
| ইরানের পাল্টা ব্যবস্থা | প্রতিবেশী দেশগুলোতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলাকে ‘অকার্যকর’ ও ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে অভিহিত করা। |
| ইসরায়েলের ভূমিকা | ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে অস্থিতিশীলতা ও উত্তেজনা বৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা। |
| নেতৃবৃন্দের হত্যাকাণ্ড | জাতীয় নেতা ও রাষ্ট্রপ্রধানদের টার্গেট করে হত্যার ক্রমবর্ধমান প্রবণতাকে বিপজ্জনক নজির হিসেবে আখ্যা দেওয়া। |
| সমাধানের পথ | সকল পক্ষকে সংঘাত ছেড়ে সংলাপ ও কূটনীতির পথে ফেরার আহ্বান। |
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও, জামায়াত আমির বিশ্বনেতাদের হত্যার এই নতুন ধারার কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি তাঁর বিবৃতিতে বলেন, আন্তর্জাতিক স্বীকৃত আইনি কাঠামোর তোয়াক্কা না করে কোনো দেশের জাতীয় নেতা বা রাষ্ট্রপ্রধানকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা বৈশ্বিক নীতিমালাকে দুর্বল করছে। এটি বিশ্বকে এক দীর্ঘস্থায়ী বিশৃঙ্খলা ও আইনহীনতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত ভীতিপ্রদ উদাহরণ।
মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে লাখ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত আছেন। যুদ্ধের এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। জামায়াত আমির বাংলাদেশ সরকারের প্রতি জোরালো দাবি জানিয়ে বলেন, সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের সুরক্ষায় জরুরি ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। পূর্ণাঙ্গ কনস্যুলার সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনে তাঁদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার বা দেশে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা রাখার ওপর তিনি জোর দেন।
পরিশেষে, তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান যাতে তারা প্রভাবশালী দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি কেবল ওই অঞ্চলের জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যও অপরিহার্য।