খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা সম্প্রতি ইসরায়েলের অত্যাধুনিক হার্মিস ৯০০ ড্রোন অক্ষত অবস্থায় জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে। আইআরজিসি সূত্রে জানা গেছে, উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে হামলার আগেই ড্রোনটিকে সফলভাবে ভূপাতিত করা হয়েছে।
ড্রোনটি শুধু ধ্বংস করা হয়নি, বরং সম্পূর্ণ সশস্ত্র এবং অক্ষত অবস্থায় জব্দ করা হয়েছে। বর্তমানে এটি ইরানের বিমান বাহিনীর মহাকাশ ইউনিটের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। ড্রোনটি প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ এবং পরীক্ষার জন্য মহাকাশ বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, যাতে এর সিস্টেম ও সেন্সর প্রযুক্তি পর্যবেক্ষণ করা যায়।
পৃথক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানী প্রতিরক্ষা বাহিনী ইসফাহান, তাবরিজসহ বিভিন্ন প্রদেশে ছয়টি উন্নত হার্মিস ড্রোনকে ভূপাতিত করেছে। সাম্প্রতিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে মোট প্রায় ৩৫টি শত্রু ড্রোনকে গুলি করে ধ্বংস করা হয়েছে।
হার্মিস ৯০০ ড্রোনটি ইসরায়েলের অত্যাধুনিক নজরদারি ও আক্রমণ ব্যবস্থা হিসেবে পরিচিত। এটি একটানা ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় আকাশে অবস্থান করতে সক্ষম এবং দিনে-রাতে লক্ষ্য শনাক্তকরণে বিশেষভাবে কার্যকর। ড্রোনটির প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ:
| বৈশিষ্ট্য | কার্যকারিতা |
|---|---|
| ইলেকট্রো-অপটিক্যাল ও ইনফ্রারেড ক্যামেরা | দিন-রাত নজরদারি এবং লক্ষ্য শনাক্তকরণ |
| সিনথেটিক অ্যাপারচার রাডার (SAR) | মেঘ বা ধোঁয়ার মধ্যেও স্পষ্ট চিত্র সংগ্রহ |
| গ্রাউন্ড মুভিং টার্গেট ইন্ডিকেটর | মাটিতে চলমান লক্ষ্য শনাক্তকরণ |
| ইলেকট্রনিক গোয়েন্দা সরঞ্জাম | সংকেত বিশ্লেষণ ও শত্রু যোগাযোগ পর্যবেক্ষণ |
আইআরজিসি জানিয়েছে, ড্রোন জব্দের মাধ্যমে তারা শত্রু প্রযুক্তি বোঝার এবং তার বিরুদ্ধে কৌশল তৈরি করার সুযোগ পেয়েছে। এই ধরণের ড্রোন জব্দের ঘটনা পূর্বে খুবই সীমিত পরিসরে ঘটেছে এবং এটি ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতার একটি বড় প্রমাণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, হার্মিস ৯০০-এর সাফল্যমণ্ডিত বিশ্লেষণ ইরানের প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ করবে। ড্রোনটির সেন্সর এবং রাডার সিস্টেমের তথ্য থেকে ভবিষ্যতে প্রতিরক্ষা কৌশল উন্নয়ন এবং শত্রু নজরদারি প্রযুক্তির মোকাবিলার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সুবিধা অর্জন করা সম্ভব হবে।
এই ঘটনার পর ইরান এবং ইসরায়েলের মধ্যে প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা খাতে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলবে।