খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
বাংলাদেশের ফুটবলে ময়মনসিংহের নান্দাইল এখন এক উর্বর ভূমির নাম। দারিদ্র্য আর সীমাবদ্ধতাকে জয় করে সেই নান্দাইলের বারুইগ্রাম থেকে সুদূর অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে দেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন মিলি আক্তার। গত ৩ মার্চ এএফসি নারী এশিয়ান কাপে চীনের বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশ জাতীয় দলের জার্সিতে অভিষেক ঘটে এই অকুতোভয় গোলরক্ষকের। রেকর্ড নয়বারের চ্যাম্পিয়ন চীনের শক্তিশালী আক্রমণভাগের সামনে অতন্দ্র প্রহরীর মতো দাঁড়িয়ে মিলি যে নৈপুণ্য দেখিয়েছেন, তা এখন ফুটবল বিশ্বে প্রশংসিত হচ্ছে।
মিলির এই পথচলা মোটেও মসৃণ ছিল না। চণ্ডীপাশা ইউনিয়নের এক অতি সাধারণ পরিবারে তার জন্ম। বাবা মো. সামছুল হক পেশায় একজন কলা বিক্রেতা এবং মা আনোয়ার বেগম গৃহিণী। পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা না থাকায় সরকারের দেওয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে তাদের বসবাস। তবে অভাব কখনো মিলির অদম্য ইচ্ছাশক্তির কাছে বাধা হতে পারেনি। ২০২২ সালে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে তার প্রতিভা প্রথম নজরে আসে। পরবর্তীতে ঘরোয়া ফুটবলে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকরি পান, যা তার ফুটবল ক্যারিয়ারে অনন্য স্থিতিশীলতা এনে দেয়।
| বিষয় | বিবরণ |
| নাম | মিলি আক্তার |
| জন্মস্থান | বারুইগ্রাম, নান্দাইল, ময়মনসিংহ। |
| পজিশন | গোলরক্ষক (জাতীয় নারী ফুটবল দল) |
| অভিষেক ম্যাচ | বনাম চীন (৩ মার্চ ২০২৬, সিডনি) |
| অর্জন | দক্ষিণ এশিয়ার সেরা গোলরক্ষক (২০২৫), একুশে পদক। |
| পেশা | ফুটবলার ও সৈনিক (বাংলাদেশ সেনাবাহিনী) |
| পারিবারিক পরিচয় | বাবা সামছুল হক (কলা বিক্রেতা), মা আনোয়ারা বেগম। |
গত বুধবার (৪ মার্চ) সিডনি থেকে মুঠোফোনে আলাপকালে মিলি আক্তার তার অভিষেকের অনুভূতি ভাগ করে নেন। চীনের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ২-০ গোলে হারলেও মিলির বীরত্বপূর্ণ সেভগুলো ছিল দেখার মতো। মিলি জানান, “জাতীয় দলের জার্সি গায়ে গোলবারের নিচে দাঁড়ানো আমার আজীবনের স্বপ্ন ছিল। প্রথম ম্যাচে সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি, তবে চীনের মতো দলের সাথে লড়াই করে আমাদের আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়ে গেছে।” তিনি আরও জানান, গোলবারের সামনে চীনের প্রাচীরের মতো অটল থাকতে চান এবং সামনের ম্যাচগুলোতে উত্তর কোরিয়া ও উজবেকিস্তানের বিপক্ষে আরও ভালো করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
মিলি একা নন, এবারের এশিয়ান কাপের স্কোয়াডে নান্দাইলের আরও দুই কৃতি সন্তান হালিমা আক্তার ও সৌরভী আকন্দ প্রীতি জায়গা করে নিয়েছেন। এক ছোট উপজেলা থেকে তিন-তিনজন নারী ফুটবলারের জাতীয় দলে প্রতিনিধিত্ব করা দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক বিরল উদাহরণ। মিলির বাবা সামছুল হক মেয়ের সাফল্যে আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “আমার মেয়ে আজ বিদেশের মাটিতে দেশের পতাকা ওড়াচ্ছে, একজন বাবা হিসেবে এর চেয়ে বড় গর্ব আর কিছু হতে পারে না।”
এশিয়ান কাপের গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের সামনের পথ মোটেও সহজ নয়। উত্তর কোরিয়া ও উজবেকিস্তানের মতো শক্তিধর দেশগুলোর বিপক্ষে লড়তে হবে সাবিনা-মিলিদের। অভিজ্ঞতা ও শক্তিমত্তায় তারা যোজন যোজন এগিয়ে থাকলেও চীনের বিপক্ষে বাংলাদেশের লড়াকু মানসিকতা ভক্তদের আশাবাদী করে তুলেছে। মিলির এই উত্থান বাংলাদেশের হাজারো তরুণীর কাছে প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। দারিদ্র্য যে প্রতিভার অন্তরায় নয়, মিলি আক্তার সিডনির সবুজ গালিচায় তা প্রমাণ করে দেখিয়েছেন।