কুমারখালী ( কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: 3শে বৈশাখ ১৪৩২ | ১৬ই এপ্রিল ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে কৃষি সেচ পাম্প নিয়ে স্থানীয় শেখ গ্রুপের সঙ্গে মোল্লা গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৯ জন আহত হয়ে কুমারখালী ও কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বুধবার (১৬ এপ্রিল) সকাল ৮ টার দিকে উপজেলার কয়া ইউনিয়নের উত্তর কয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর মোল্লা গ্রুপের পুরুষরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেলে অন্তত চারটি বাড়িতে ভাঙচুর করেন প্রতিপক্ষরা।
আহতরা হলেন- হামিদুল শেখ (৫০), নাঈম শেখ (২২), ইব্রাহিম শেখ (৬৫), ইয়ামিন শেখ (১৯) ও আলম শেখ (২০)। হাতে ও মাথায় আঘাত নিয়ে তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তারা সবাই শেখ গ্রুপের লোক।
অন্যদিকে মোল্লা গ্রুপের আহতরা হলেন- ছমসের আলী মোল্লা (৫৫), রুহুল আলম (৬০), শামসুল আলম (৫৮) এবং নান্নু মোল্লা (৫০)। তারা কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, শেখ গ্রুপের অন্তত ৫ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন সেখানে। তাদের মাথা ও হাতে ব্যান্ডিস করা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোল্লা গ্রুপের লোকজন আওয়ামী লীগের সমর্থক। অপরদিকে শেখ গ্রুপের লোকজন বিএনপির সমর্থক। প্রায় ছয় বছর ধরে উত্তর কয়া গ্রামের রবিউল আলম মোল্লা তার কৃষি কাজের সেচ পাম্পটি হামিদুল শেখের কাছে ইজারা দিয়েছেন। হামিদুল দুই বছর অন্তর অন্তর বৈশাখ মাসে প্রায় ৩৬ হাজার টাকা দেন রবিউলকে। তবে এবছর থেকে রবিউল পাম্পটি ইজারা দিবে না বলে তালা লাগিয়ে দেন। তবুও বুধবার সকালে হামিদু্ল শেখ তার লোকজন নিয়ে তালা খুলতে গেলে দু’পক্ষের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পাম্পের ইজারাদার হামিদুল শেখ বলেন, ‘দুই বছর অন্তর অন্তর ৩৬ হাজার টাকা ইজারা দিই রবিউলকে। এখনও দুইমাস মেয়াদ আছে। তবুও তারা তালা লাগিয়ে দিয়েছেন। আবার আমাদেরই মাথা ফাটিয়েছে। আমি বিচার চাই। থানায় মামলা করব।’
তার ভাই কয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ইমরান শেখ বলেন, ‘আমার ভাই হামিদুল ও ভাতিজা নাঈম সকালে পাম্প চালাতে গেলে আওয়ামী লীগ নেতা শাহিন মোল্লা, রেজাউল মোল্লাসহ তাদের লোকজন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে। এতে ৫ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।’
এ সময় পাম্প মালিক রবিউল মোল্লার স্ত্রী জাহানারা খাতুন বলেন, ‘পহেলা বৈশাখেই মেয়াদ শেষ হয়েছে ইজারার। ছেলে পেলে নাতিপুতি বড় হয়েছে। এখন নিজেরাই পাম্প চালাবো। কিন্তু হামিদুলরা জোর করেই পাম্প নিতে চায়। পাম্প নিতে না পেরে আমাদের লোকজনকে মারধর করেছে, কুপায়ছে তারা। বাড়িতে ভাঙচুর করেছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’
জানা যায়, কয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আশরাফুল আলম পান্না মোল্লা। তিনি সম্প্রতি শহরে থাকেন। তার বাড়িতে ভাড়া থাকেন বেলতলা এলাকার মারুফ হোসেন ও পলী আক্তার দম্পতি।
হামলার বিষয়ে পলী আক্তার বলেন, ‘মাস ছয়েক হল ভাড়া আছি। কিন্তু আজ সকাল থেকে মারামারি চলছে। বাড়িতে ভাঙচু হয়েছে। প্রতিপক্ষের লোকজন দুই ঘণ্টা আলটিমেটাম দিয়েছেন। সেজন্য মালামাল নিয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছি।’
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলায়মান শেখ বলেন, ‘সেচ পাম্পের ইজারা বা মালিকানা নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে বেশকিছু লোকজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কয়েকটি বাড়িতে হালকা ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকা শান্ত আছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া।’
খবরওয়ালা/টিএ