খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানো এবং আসন্ন গ্রীষ্ম মৌসুমে লোডশেডিংমুক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকরা বকেয়া বিল পরিশোধের জোরালো দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, নগদ অর্থ সংকটের এই মুহূর্তে সরকার বকেয়া পাওনা বাবদ বিশেষ ‘বন্ড’ ইস্যু করতে পারে, যা ব্যাংকঋণ সমন্বয়ে সহায়ক হবে। সোমবার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন (বিআইপিপিএ) এই দাবি উত্থাপন করে।
সংবাদ সম্মেলনে বিআইপিপিএ নেতারা জানান, বর্তমানে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা বকেয়া পড়ে আছে। চুক্তি অনুযায়ী বিল পরিশোধে ৩০ দিনের বেশি বিলম্ব করার সুযোগ না থাকলেও, বর্তমানে ১৮০ থেকে ২৭০ দিন পর্যন্ত বিল বকেয়া থাকছে। এই বিশাল অংকের পাওনা আটকে থাকায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে জ্বালানি তেল আমদানির জন্য নতুন করে ঋণপত্র (LC) খোলা সম্ভব হচ্ছে না।
সংগঠনটির মতে, গত বছর অন্তর্বর্তী সরকার পাঁচ হাজার কোটি টাকার বন্ড ছেড়ে বকেয়া সমন্বয় করায় বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিস্থিতি স্থিতিশীল ছিল। বর্তমান সরকারও যদি একই ধরনের পদক্ষেপ নেয়, তবে যুদ্ধকালীন বিশ্ব পরিস্থিতিতেও জ্বালানি আমদানি অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে।
এক নজরে বিদ্যুৎ খাতের সক্ষমতা ও বর্তমান চিত্র:
| বিষয়ের বিবরণ | তথ্যের সারসংক্ষেপ |
| মোট উৎপাদন সক্ষমতা | ২৮,০০০ মেগাওয়াটের বেশি |
| গ্যাস সংকটে অকেজো সক্ষমতা | ৬,০০০ মেগাওয়াট |
| রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ | ১,৬২৬ মেগাওয়াট |
| প্রকৃত উৎপাদন সক্ষমতা | ১৮,৬২৭ মেগাওয়াট (সর্বোচ্চ চাহিদার সময়) |
| বকেয়া বিলের পরিমাণ | ১৪,০০০ কোটি টাকা |
| জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি (৬ বছরে) | ৯৫% |
বিআইপিপিএ-র হিসাব অনুযায়ী, কাগজে-কলমে সক্ষমতা ২৮ হাজার মেগাওয়াট হলেও প্রকৃতপক্ষে ১৮ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা বর্তমান পরিস্থিতিতে কঠিন। গ্যাস সরবরাহের তীব্র ঘাটতির কারণে ২৩ শতাংশ বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানো সম্ভব হচ্ছে না। রাতের বেলায় সৌরবিদ্যুৎ না পাওয়া এবং উচ্চ ব্যয়ের কারণে ডিজেলচালিত কেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকায় আসন্ন গরমে লোডশেডিংয়ের আশঙ্কা প্রকট হচ্ছে।
লিখিত বক্তব্যে সাবেক সভাপতি ইমরান করিম সতর্ক করে বলেন, বর্তমানে যে পরিমাণ তেলের মজুত রয়েছে, তা দিয়ে আগামী ৭ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত উৎপাদন চালানো সম্ভব হতে পারে। এরপর দ্রুত জ্বালানি আমদানি করতে না পারলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে।
বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ কমাতে বিআইপিপিএ জ্বালানি তেলের ওপর ৩৪ শতাংশ এবং এলএনজি আমদানিতে ২২ শতাংশ শুল্ক সাময়িকভাবে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, গত ছয় বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সামগ্রিক খরচ ৯৫ শতাংশ বাড়লেও গ্রাহক পর্যায়ে দাম সেভাবে বাড়েনি, যার ফলে সরকারের ভর্তুকির চাপ বাড়ছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিআইপিপিএ সভাপতি কে এম রেজাউল হাসনাত বলেন, গ্যাস আমদানির অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে চাইলেই সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব নয়। তাই তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোকে সচল রাখা অত্যন্ত জরুরি। বিশ্ববাজারে এলএনজির দাম বাড়তে থাকায় তুলনামূলক সাশ্রয়ী জ্বালানি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখতে সরকারকে এখনই বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ বা বন্ডের ব্যবস্থা করতে হবে।
সবশেষে, মালিকপক্ষ মনে করে যে, সরকারের সঠিক তদারকি এবং বকেয়া পরিশোধের সদিচ্ছাই পারে আসন্ন গ্রীষ্মে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে।