খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫
নরসিংদী জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্পের ফলে দেখা দেওয়া মাটির ফাটল নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি) জানিয়েছে, এসব ফাটল ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল বা কেন্দ্রস্থলের ফল্টলাইন থেকে তৈরি হয়নি। অগভীর এসব ফাটল নিরাপদ ও সহজেই মাটির মাধ্যমে বন্ধ করা যায়।
ভূমিকম্পের ভূতাত্ত্বিক প্রভাব মূল্যায়নের জন্য গত শনিবার জিএসবির তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। তারা অন্তত তিনটি স্থানে মাটির ফাটল পরীক্ষা করেন। ফাটলগুলো ৪ মিটার থেকে সর্বোচ্চ ৩০ মিটার পর্যন্ত দীর্ঘ এবং অগভীর।
জিএসবির উপপরিচালক মো. মাহমুদ হোসেন খান বলেন, ফাটলগুলো জলাশয়ের পাশে তৈরি হয়েছে। ভূমিকম্পের সময় জলাশয়ের পানির চাপের কারণে আশপাশের মাটি আলগা হয়ে ফাটল তৈরি হয়েছে। তিনি নিশ্চিত করেছেন, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই এবং অগভীর এসব ফাটল মাটি দিয়ে বন্ধ করা যাবে।
জিএসবির উপপরিচালক ব্যাখ্যা করেন, ফাটলের কারণ হলো ‘লিকুইফ্যাকশন’ বা ভূমি তরলীকরণ। ভূমিকম্পের তরঙ্গ যখন জলাশয়ের নিকটবর্তী ভরাট করা শুষ্ক বালুর স্তরে আঘাত করে, তখন কম্পনের কারণে পানি বালুর স্তরে প্রবেশ করে। একপর্যায়ে মাটি তার ভার বহনক্ষমতা হারিয়ে ফেলে এবং তরল হয়ে ওঠে। এর ফলে মাটির ওপরের স্তর ধসে পড়ে বা ফেটে যায়।
গত শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে রাজধানীসহ আশপাশের এলাকায় ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে। উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদী। পরদিন শনিবার সকালে আবার নরসিংদীতে ভূমিকম্প হয়। শুক্রবারের ভূমিকম্পে শিশুসহ ১০ জন নিহত ও ৬ শতাধিক আহত হন। সবচেয়ে বেশি পাঁচজনের মৃত্যু নরসিংদীতে হয়। পলাশ উপজেলার অন্তত দুটি স্থানে মাটিতে ফাটল দেখা দেয়। এছাড়া ঘোড়াশালের লেবুপাড়ার একটি গরুর খামারের আঙিনায় দীর্ঘ ফাটল দেখা গেছে।
জিএসবির তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল বলছে, শনিবারের ভূমিকম্পটি ‘আফটার শক’ কি না তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তিন সদস্যের মধ্যে ছিলেন মো. মাহমুদ হোসেন খান, আনিসুর রহমান ও সেলিম রেজা। তারা নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) যে কেন্দ্রস্থল উল্লেখ করেছে, সেখানে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ফাটল পাওয়া যায়নি। ফাটল দেখা যেসব এলাকায়, সেখানে প্রত্যেকটির পাশে জলাশয় রয়েছে এবং মাটি বালুতে ভরাট।
ভূতাত্ত্বিকরা বলেন, ভূমিকম্পের একটি প্রধান প্রমাণ হলো ভূপৃষ্ঠের ফাটল। এটি তখনই ঘটে, যখন ভূ-অভ্যন্তরের ফাটলরেখা ভূপৃষ্ঠ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে এক ভূখণ্ডকে অন্য ভূখণ্ডের তুলনায় উপরে বা নিচে নামিয়ে দেয়।
খবরওয়ালা/টিএসএন