খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৫ জুলাই ২০২৫
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং তার স্ত্রী ব্রিজিত ম্যাক্রোঁ যুক্তরাষ্ট্রের আলোচিত মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ক্যান্ডেস ওয়েন্সের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছেন। ডেলাওয়ারের আদালতে দায়ের করা এ মামলায় বলা হয়েছে, ক্যান্ডেস ইচ্ছাকৃতভাবে ব্রিজিত ম্যাক্রোঁকে নিয়ে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও অবমাননাকর তথ্য ছড়িয়েছেন।
ওয়েন্স সম্প্রতি দাবি করেন, ব্রিজিত আসলে জন্মেছেন পুরুষ হিসেবে, নাম ছিল ‘জ্যঁ-মিশেল ত্রোনিয়ে’। শুধু তা-ই নয়, তিনি বলেন ইমানুয়েল ও ব্রিজিত রক্তসম্পর্কিত এবং প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ একটি ‘সিআইএ প্রকল্পের’ অংশ, যা কোনো সরকারি ‘মাইন্ড কন্ট্রোল’ পরীক্ষার ফল হতে পারে। এসব দাবির ভিত্তিতে ওয়েন্স ইউটিউবে ‘Becoming Brigitte’ নামে আট পর্বের সিরিজ প্রকাশ করেন, যা প্রায় ৪৫ লাখ অনুসারীর কাছে পৌঁছায়।
ম্যাক্রোঁ দম্পতির দাবি, এসব অপপ্রচার তাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক মর্যাদায় আঘাত হেনেছে এবং আর্থিকভাবেও ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। মামলায় উল্লেখ করা হয়, ক্যান্ডেস ওয়েন্স শুধু গুজব ছড়াননি, বরং সেগুলোকে নিজের খ্যাতি ও ব্যবসার প্রচারে ব্যবহার করেছেন।
গত ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট দম্পতি ওয়েন্সকে চিঠি পাঠিয়ে এসব অভিযোগ কঠোরভাবে অস্বীকার করেন এবং প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মতো ‘মিথ্যা ও ঘৃণ্য’ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন।
মামলার প্রেক্ষাপটে আরও উল্লেখ করা হয়, ইমানুয়েল ও ব্রিজিতের সম্পর্কের শুরু ১৯৯৩ সালে, যখন ইমানুয়েল ছিলেন ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থী এবং ব্রিজিত ছিলেন তার ৩৯ বছর বয়সী শিক্ষিকা। তবে তারা ফরাসি আইনের আওতায় থেকেই ২০০৭ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
সম্প্রতি আরও একটি ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয়, যখন মে মাসে ভিয়েতনাম সফরের সময় বিমান থেকে নামার মুহূর্তে ব্রিজিত প্রকাশ্যে ইমানুয়েলকে থাপ্পড় মারেন। যদিও প্রেসিডেন্ট এটিকে দাম্পত্য রসিকতা বলে ব্যাখ্যা করেছেন।
এদিকে ব্রিজিত ম্যাক্রোঁকে ঘিরে একটি বায়োপিক সিরিজ তৈরি করছে ‘লুপাঁ’ খ্যাত গোমঁ স্টুডিও, যা ইতিমধ্যেই আগ্রহের কেন্দ্রে।
অনেকে ম্যাক্রোঁ দম্পতির এই আইনি পদক্ষেপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজব ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের প্রতিরোধ হিসেবে দেখছেন।
খবরওয়ালা/এমএজেড