খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
ফুটবলকে বলা হয় ‘দ্য বিউটিফুল গেম’, কিন্তু মাঝে মাঝে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সেই সৌন্দর্যে বড় ধরনের দাগ ফেলে দেয়। এমনই এক কলঙ্কিত অধ্যায়ের সাক্ষী হলো ব্রাজিলের মিনেইরো চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল ম্যাচ। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব ক্রুজেইরো এবং আতলেতিকো মিনেইরোর মধ্যকার ফাইনালটি শেষ পর্যন্ত ফুটবলের লড়াই না হয়ে পরিণত হয়েছিল এক হিংস্র রণক্ষেত্রে। যেখানে খেলোয়াড়দের পায়ের জাদুকে ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠেছিল কিল, ঘুষি আর ফ্লাইং কিকের উন্মাদনা। এই নজিরবিহীন ঘটনার প্রেক্ষাপটে রেফারিকে শেষ পর্যন্ত ২৩টি লাল কার্ড দেখাতে হয়েছে।
ম্যাচটি শুরু থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনাপূর্ণ। দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলে ডার্বি ম্যাচগুলোতে সাধারণত যে ধরনের আগ্রাসন দেখা যায়, এদিন তা ছিল কয়েক গুণ বেশি। ম্যাচের দ্বিতীয় অর্ধের মাঝামাঝি সময়ে জুভেন্টাসের সাবেক স্ট্রাইকার কাইও হোর্হের গোলে ক্রুজেইরো এগিয়ে গেলে গ্যালারি ও মাঠের পরিবেশ উত্তপ্ত হতে শুরু করে। গোল শোধের জন্য মরিয়া আতলেতিকো মিনেইরো একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে। তবে নাটকের আসল মঞ্চ তৈরি হয় অতিরিক্ত সময়ের ঠিক শেষ মুহূর্তে।
খেলার ইনজুরি টাইমের ৬ষ্ঠ মিনিটে ক্রুজেইরো উইঙ্গার ক্রিস্টিয়ান একটি কড়া ট্যাকল করেন। এটি মেনে নিতে পারেননি আতলেতিকো গোলরক্ষক এভারসন। তিনি মেজাজ হারিয়ে ক্রিস্টিয়ানের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং শারীরিক নিগ্রহ শুরু করেন। সতীর্থকে আক্রান্ত হতে দেখে ক্রুজেইরোর বেঞ্চের খেলোয়াড়রা মাঠে ঢুকে পড়েন, পালটা প্রতিক্রিয়া দেখায় আতলেতিকোর ডাগআউটও। মুহূর্তের মধ্যে মাঠটি একটি বক্সিং রিংয়ে পরিণত হয়। পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে, আম্পায়ার বা রেফারি নন, শেষ পর্যন্ত দাঙ্গা দমনে নিয়োজিত ‘মিলিটারি পুলিশ’ মাঠে নামাতে হয়।
ম্যাচের বিতর্কিত ঘটনার পরিসংখ্যান:
| বিবরণের ক্ষেত্র | তথ্যের সারসংক্ষেপ |
| টুর্নামেন্টের নাম | মিনেইরো চ্যাম্পিয়নশিপ (ব্রাজিল) |
| প্রতিপক্ষ দল | ক্রুজেইরো বনাম আতলেতিকো মিনেইরো |
| সংঘর্ষের ব্যাপ্তি | আনুমানিক ১০ মিনিট |
| মোট লাল কার্ড সংখ্যা | ২৩টি |
| ক্রুজেইরোর বহিষ্কৃত | ১২ জন (খেলোয়াড় ও কর্মকর্তা) |
| আতলেতিকোর বহিষ্কৃত | ১১ জন (খেলোয়াড় ও কর্মকর্তা) |
| হস্তক্ষেপকারী সংস্থা | ব্রাজিলিয়ান মিলিটারি পুলিশ |
বহিষ্কৃতদের তালিকায় সবচেয়ে বড় নামটি হলো আতলেতিকো অধিনায়ক এবং ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি হাল্ক। ৩৯ বছর বয়সী এই ফুটবলার তার অসীম শারীরিক শক্তির অপপ্রয়োগ ঘটিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হন। ম্যাচ শেষে এক সাক্ষাৎকারে হাল্ক নিজের ভুল স্বীকার করলেও রেফারির অযোগ্যতাকে দায়ী করেছেন। তিনি দাবি করেন, রেফারি মাতিউস কান্দানসান শুরু থেকেই ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ ছিলেন। যদি প্রথম থেকেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতো, তবে ২৩ জনকে লাল কার্ড দেখার মতো লঙ্কাকাণ্ড ঘটত না।
ব্রাজিলের এই ঘটনা বিশ্ব ফুটবলে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল ফেডারেশনগুলো এই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট ফুটবলারদের দীর্ঘমেয়াদী নিষেধাজ্ঞার কথা ভাবছে। ফুটবলবোদ্ধারা মনে করছেন, মাঠের ভেতরে এমন আচরণ কেবল ফুটবলের স্পিরিটই নষ্ট করে না, বরং সমর্থকদের মধ্যেও উগ্রবাদ ছড়িয়ে দেয়। ২৩টি লাল কার্ডের এই পরিসংখ্যান ফুটবল ইতিহাসের ডার্বি ম্যাচগুলোর মধ্যে এক বিরল ও লজ্জাজনক রেকর্ড হিসেবে টিকে থাকবে।