খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 22শে মাঘ ১৪৩২ | ৪ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
আরব সাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ এব্রাহাম লিংকনের কাছাকাছি আসা একটি ইরানি ড্রোন যুক্তরাষ্ট্র ভূপাতিত করেছে। মার্কিন সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়, ড্রোনটি জাহাজের দিকে আক্রমণাত্মকভাবে এগোছিল।
মার্কিন সেনট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানান, এটি একটি শাহেদ-১৩৯ ড্রোন, যা জাহাজের দিকে এগোতে দেখে একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান থেকে গুলি করে ধ্বংস করা হয়। ঘটনার সময় জাহাজে কোনো মার্কিন সেনার ক্ষতি হয়নি।
ইরানি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে যে, ড্রোনটি নিখোঁজ হয়ে গেছে, তবে ধ্বংসের কারণ নিশ্চিত করেনি। ইরানের জাতিসংঘ মিশনও এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
এই উত্তেজনার প্রেক্ষিতে বিশ্ববাজারে তেলের মূল্য দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ১ ডলার বেড়ে গেছে।
ড্রোন ধ্বংসের কয়েক ঘণ্টা পর হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ এমভি স্টেনা ইম্পেরেটিভ ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড নৌকাদের হস্তক্ষেপের চেষ্টা সত্ত্বেও নিরাপদে চলাচল করতে সক্ষম হয়। এই জটিল পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ ম্যাকফল হস্তক্ষেপ করে।
মার্কিন এবং ইরানের মধ্যে পারমাণবিক চুক্তি সংক্রান্ত আলোচনার সময় এই উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি আরও সঙ্কটাপন্ন হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই সতর্ক করেছে যে, চুক্তি ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি অঞ্চলজুড়ে জোরদার করা হয়েছে।
এই ঘটনায় উত্তেজনা, সামরিক হুঁশিয়ারি এবং বাণিজ্যিক প্রভাবকে একসাথে বোঝাতে নিচের টেবিলটি প্রাসঙ্গিক:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ড্রোন ধ্বংসের স্থান | আরব সাগর, এ্যাব্রাহাম লিংকন নিকট |
| ড্রোনের ধরন | শাহেদ-১৩৯ (ইরানি) |
| ধ্বংসকারী বিমান | এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান |
| মার্কিন ক্ষতি | নেই |
| বাণিজ্যিক জাহাজ হুমকি | এমভি স্টেনা ইম্পেরেটিভ |
| তেলের বাজার প্রভাব | ব্যারেল প্রতি প্রায় ১ ডলার বৃদ্ধি |
| আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট | পারমাণবিক চুক্তি আলোচনার সময় উত্তেজনা |
| যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ | মধ্যপ্রাচ্যে নৌবাহিনী উপস্থিতি জোরদার |
মার্কিন ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করেছেন যে, সামরিক সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক পদক্ষেপ এখন অতি জরুরি।