খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
মুন্সীগঞ্জ-১ (সিরাজদিখান-শ্রীনগর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং সিরাজদিখান উপজেলা আওয়ামী লীগের দীর্ঘকালীন সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ আর নেই। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর।
পারিবারিক সূত্র জানায়, মহিউদ্দিন আহমেদ বেশ কিছুদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতা ও নিউমোনিয়ায় ভুগছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আনা হয়েছিল। চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে ১০ মার্চ সন্ধ্যায় তিনি বিদায় নেন। তার মরদেহ মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার মালখানগর ইউনিয়নের কাজীরবাগ গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আগামীকাল সেখানে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করার প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে তার পরিবার।
মহিউদ্দিন আহমেদ ছিলেন মুন্সীগঞ্জ জেলার রাজনীতির এক পরিচিত মুখ। তৃণমূল পর্যায় থেকে উঠে আসা এই নেতা স্থানীয় সরকার এবং জাতীয় রাজনীতি—উভয় ক্ষেত্রেই নিজের দীর্ঘ পদচারণা বজায় রেখেছিলেন। তার রাজনৈতিক জীবনের একটি সারসংক্ষেপ নিচে টেবিল আকারে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
| পুরো নাম | মহিউদ্দিন আহমেদ |
| জন্মস্থান | কাজীরবাগ, মালখানগর, সিরাজদিখান |
| মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা | মুন্সীগঞ্জ জেলার অন্যতম সংগঠক |
| ইউপি চেয়ারম্যান | ৫ বার নির্বাচিত (মালখানগর ইউনিয়ন) |
| উপজেলা চেয়ারম্যান | ৩ বার নির্বাচিত (সিরাজদিখান উপজেলা) |
| সংসদ সদস্য | দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন (মুন্সীগঞ্জ-১) |
| দলীয় পদ | সভাপতি, সিরাজদিখান উপজেলা আওয়ামী লীগ |
মহিউদ্দিন আহমেদের রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয় ছাত্রজীবন থেকেই। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলায় মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নিজেকে নিবেদিত করেন। বিরল কৃতিত্বের অধিকারী হিসেবে তিনি মালখানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে ৫ বার এবং সিরাজদিখান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে ৩ বার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি সিরাজদিখান উপজেলা আওয়ামী লীগের হাল ধরে রেখেছিলেন।
২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বিতর্কিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি মুন্সীগঞ্জ-১ আসন থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে তার এই সংসদীয় মেয়াদ ছিল খুবই সংক্ষিপ্ত।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটলে মহিউদ্দিন আহমেদ রাজনৈতিক সংকটে পড়েন। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর জনরোষ এড়াতে তিনি এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। এই সময়কালে তার বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় বেশ কয়েকটি মামলাও দায়ের করা হয়। আত্মগোপনে থাকা অবস্থাতেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে, যা শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর দিকে ধাবিত হয়।
তার মৃত্যুতে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তার অনেক অনুসারী যেমন ছিল, তেমনি শেষ বয়সে এসে আইনি জটিলতা ও রাজনৈতিক পালাবদলের চাপ তাকে অনেকটা নিঃসঙ্গ করে দিয়েছিল। তার মরদেহ নিজ গ্রামে পৌঁছালে সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।