খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
দেশের ফুটবলের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ক্লাব আবাহনী লিমিটেড। ফেডারেশন কাপের ইতিহাসে এক ডজন ট্রফি জয়ের রেকর্ড থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে মাঠের পারফরম্যান্স যেন ক্লাবটির সোনালী অতীতকে ম্লান করে দিচ্ছে। সর্বশেষ ২০২২ সালে এই প্রতিযোগিতার শিরোপা জিতেছিল আকাশি-নীলরা। তবে গত আসরের ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বসুন্ধরা কিংসের কাছে হারের পর এবারের আসরে গ্রুপ পর্ব পার হওয়া নিয়েই চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ, ২০২৬) কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটির বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে নিজেদের বিপদ নিজেরাই বাড়িয়েছে আবাহনী।
পুরান ঢাকার ক্লাব রহমতগঞ্জের বিপক্ষে শুরু থেকেই আক্রমণের পসরা সাজিয়ে বসেছিল আবাহনী। তবে গোলের সুযোগ তৈরি করলেও ফিনিশিংয়ের নিদারুণ ব্যর্থতা ছিল চোখে পড়ার মতো। ম্যাচের মাত্র ৯ মিনিটেই আর্নেস্ট বোয়াটেংয়ের গোলে এগিয়ে যায় রহমতগঞ্জ, যা আবাহনী শিবিরকে স্তব্ধ করে দেয়। গোল হজম করে মরিয়া হয়ে ওঠে আকাশি-নীলরা। একের পর এক আক্রমণ শাণালেও লক্ষ্যভেদে বারবার ব্যর্থ হচ্ছিলেন স্ট্রাইকাররা। অবশেষে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে গোল করে সমতা ফেরান শেখ মোরছালিন। দ্বিতীয়ার্ধে আবাহনী বল দখলে এগিয়ে থাকলেও গোলমুখে নেওয়া ১৭টি শটের অধিকাংশ ছিল লক্ষ্যভ্রষ্ট, যার ফলে ১ পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় তাদের।
নিচে ‘এ’ গ্রুপের বর্তমান পয়েন্ট টেবিল ও আবাহনীর অবস্থানের একটি চিত্র দেওয়া হলো:
| দলের নাম | ম্যাচ সংখ্যা | জয় | ড্র | হার | পয়েন্ট | অবস্থান |
| ব্রাদার্স ইউনিয়ন | ৩ | ২ | ১ | ০ | ৭ | ১ম |
| আবাহনী লিমিটেড | ৩ | ১ | ১ | ১ | ৪ | ২য় |
| পিডব্লুডি | ২ | ১ | ০ | ১ | ৩ | ৩য় |
| রহমতগঞ্জ এমএফএস | ২ | ০ | ২ | ০ | ২ | ৪র্থ |
| ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্স | ২ | ০ | ০ | ২ | ০ | ৫ম |
ফেডারেশন কাপের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল সরাসরি কোয়ালিফিকেশন রাউন্ডে খেলার সুযোগ পাবে। সেই হিসেবে ৩ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে ব্রাদার্স ইউনিয়ন প্রায় নিশ্চিতভাবেই পরের রাউন্ডে পা রেখেছে। দিনের অন্য ম্যাচে কিংস অ্যারেনায় তারা ৩-০ গোলে হারিয়েছে পিডব্লুডিকে। ব্রাদার্সের পরবর্তী ম্যাচ আগামী ১৪ এপ্রিল তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষ ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্সের বিপক্ষে।
অন্যদিকে, আবাহনীর জন্য পরিস্থিতি এখন ‘ডু অর ডাই’ বা মরো-বাঁচো লড়াইয়ে দাঁড়িয়েছে। ৩ ম্যাচে মাত্র ৪ পয়েন্ট নিয়ে তারা দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও তাদের হাতে রয়েছে মাত্র একটি ম্যাচ। আগামী ২৮ এপ্রিল পিডব্লুডির বিপক্ষে শেষ ম্যাচে আবাহনীকে অবশ্যই জিততে হবে। যদি তারা সেই ম্যাচে হেরে যায়, তবে টুর্নামেন্ট থেকে তাদের বিদায় ঘণ্টা বেজে যাবে। এমনকি ড্র করলেও তাদের তাকিয়ে থাকতে হবে রহমতগঞ্জ ও পিডব্লুডির বাকি ম্যাচগুলোর ফলাফলের ওপর। রহমতগঞ্জের এখনো দুটি ম্যাচ বাকি রয়েছে এবং তাদের হাতে পয়েন্ট পাওয়ার সুযোগ বেশি।
আবাহনী সমর্থকরা দলের বর্তমান ফর্ম নিয়ে বেশ চিন্তিত। বিশেষ করে রক্ষণভাগের কিছু আলগা ভুল এবং ফরোয়ার্ডদের গোল করার অক্ষমতা কোচ ও ম্যানেজমেন্টের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। রহমতগঞ্জের বিপক্ষে বল দখলে আধিপত্য দেখালেও স্কোরলাইনে তার প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি দলটি। বড় দল হিসেবে পরিচিত আবাহনী যদি ২৮ এপ্রিলের ম্যাচে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট অর্জন করতে না পারে, তবে ফেডারেশন কাপের ইতিহাসে এটি তাদের জন্য অন্যতম বড় বিপর্যয় হিসেবে গণ্য হবে।
পরিশেষে বলা যায়, ফেডারেশন কাপের নকআউট পর্বে যাওয়ার পথটি আবাহনীর জন্য এখন কণ্টকাকীর্ণ। মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের সেরাটা ঢেলে দিতে না পারলে কেবল ভাগ্যের ওপর ভর করে এবারের আসরে টিকে থাকা তাদের জন্য প্রায় অসম্ভব।