কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় মঙ্গলবার ভোরে এক ভয়ঙ্কর গ্যাস বিস্ফোরণে একই পরিবারের চারজন দগ্ধ হয়েছেন। স্থানীয় সময় সেহরির সময়, উপজেলার প্রধান শহরের একটি আবাসিক এলাকায় গ্যাস লাইনের বিস্ফোরণ ঘটে, যার ফলে নারী ও শিশুসহ পরিবারটির সদস্যরা গুরুতর দগ্ধ হন। ঘটনাস্থল থেকে তাদের দ্রুত জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।
দগ্ধদের মধ্যে রয়েছেন পরিবারপ্রধান মনোয়ারা (৬০), জিল হক (৩৭), উম্মে হুমায়রা (৩০) এবং দুই বছর বয়সী শিশু হুররাম। আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানিয়েছেন, তাদের দগ্ধের মাত্রা ভিন্নভাবে ঘটেছে। বিশেষ করে জিল হক ও উম্মে হুমায়রার দগ্ধ অত্যন্ত গুরুতর, ফলে তাদের জীবনহানি আশঙ্কা রয়েছে।
দগ্ধদের বিস্তারিত তথ্য
| নাম | বয়স | দগ্ধের শতাংশ | বর্তমান অবস্থা |
|---|---|---|---|
| মনোয়ারা | ৬০ | ২% | স্থিতিশীল |
| জিল হক | ৩৭ | ৫৪% | আশঙ্কাজনক |
| উম্মে হুমায়রা | ৩০ | ৬৫% | আশঙ্কাজনক |
| হুররাম | ২ | ৬% | পর্যবেক্ষণে |
দাউদকান্দি ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ফায়ার ফাইটার আবদুল হান্নান জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো হয়। তিনি বলেন, “আগুন তেমনভাবে ছড়ায়নি। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী এটি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ নয়, বরং গ্যাস লাইনের বিস্ফোরণ হয়েছে। তবে বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন।”
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ভোরে এক মুহূর্তে বিশাল শব্দে বিস্ফোরণ হয় এবং বিস্ফোরণের ধাক্কায় ঘরের জানালা ও দরজাগুলো ছিঁড়ে যায়। প্রতিবেশীরা দগ্ধদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। স্থানীয় প্রশাসনও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছেন।
এ ঘটনায় দাউদকান্দি উপজেলার বাসিন্দারা সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে পুরনো বা ছেঁড়া গ্যাস লাইনের ব্যবহার এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। চিকিৎসকরা পরিবারটির প্রতি অবিলম্বে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি সকলকে নিরাপত্তা বিধি মানার পরামর্শ দিয়েছেন।
সর্বশেষ জানা অনুযায়ী, মনোয়ারা বেগম এবং শিশু হুররামের অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও জিল হক ও উম্মে হুমায়রার জীবন রক্ষায় বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ নির্ধারণের জন্য আরও তদন্ত চালাচ্ছে।
এই দুঃখজনক ঘটনা আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, গ্যাস ব্যবহারে সতর্কতা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের গুরুত্ব অপরিসীম।