খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 27শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ১১ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলায় হত্যা মামলার আসামি রাসেল মিয়া (২৬) মঙ্গলবার সকালে কারাগারে আকস্মিকভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন। নিহত রাসেল নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের বনগাঁও গ্রামের আতিক মিয়ার ছেলে। তিনি ৫ জানুয়ারি থেকে হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দি ছিলেন।
কারাগারের পক্ষ থেকে জানা যায়, কয়েকদিন ধরে রাসেল মিয়া জ্বরে ভুগছিলেন। বন্দি থাকার সময় কারাগারের চিকিৎসা কেন্দ্রে তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। বুধবার সকালে হঠাৎ তিনি গোসলখানায় পড়ে যান। ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে কারাগারের চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। এরপর সকাল ৯টার দিকে তাকে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হবিগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলা মো. বিল্লাল মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাসেল মিয়া হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”
নিহতের হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপটও উল্লেখযোগ্য। গত বছরের ৭ নভেম্বর নবীগঞ্জ উপজেলার বনগাঁও নতুন জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে একটি ঘটনার সময় এমরুল মিয়া নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি ছুরিকাঘাতের শিকার হন। আহত অবস্থায় তিনি সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালে মারা যান। এ ঘটনায় রাসেল মিয়া সহ মোট সাতজনকে আসামি করে নবীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
নিচের টেবিলে ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| নিহত বন্দির নাম | রাসেল মিয়া |
| বয়স | ২৬ বছর |
| গ্রামের নাম | বনগাঁও, আউশকান্দি, নবীগঞ্জ |
| বাবার নাম | আতিক মিয়া |
| মামলার বিষয় | হত্যা মামলার আসামি |
| কারাগারে বন্দি থাকা শুরু | ৫ জানুয়ারি ২০২৬ |
| মৃত্যু সময় | ১১ মার্চ ২০২৬, সকাল ৯টার আগে |
| চিকিৎসা কেন্দ্র | হবিগঞ্জ জেলা কারাগার হাসপাতাল, পরে সদর হাসপাতাল |
| মৃত্যুর প্রাথমিক কারণ | হৃদরোগ অনুমান |
| সম্পর্কিত ঘটনা | এমরুল মিয়ার ছুরিকাঘাত ও মৃত্যুর মামলা |
| আসামির সংখ্যা | ৭ জন |
এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন এবং কারাগার কর্তৃপক্ষ দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। পরিবারের সদস্যরা ইতোমধ্যেই মরদেহ গ্রহণের প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করছেন। জেলা প্রশাসন কারাগারে বন্দিদের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ ও জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা আরও কড়াকড়ি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
মৃত্যুর সঙ্গে যুক্ত মামলার বিচার প্রক্রিয়া এবং কারাগারে বন্দিদের নিরাপত্তা বিষয়ক বিষয়টি স্থানীয় জনগণের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। আশা করা হচ্ছে, এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।