খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬
প্রবীণ গায়ক রফিকুল আলম আজও তার সুরেলা কণ্ঠে শ্রোতাদের মুগ্ধ করছেন। দশকের পর দশক ধরে বাংলাদেশের সঙ্গীতাঙ্গনকে সমৃদ্ধ করেছেন তিনি। দেশ-বিদেশে সমাদৃত এই শিল্পী কেবল গান গাইবেন তা নয়, বরং দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে জীবন্ত রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
রফিকুল আলমের শৈশবের ঈদ আনন্দের স্মৃতি আজও তার মনে উজ্জ্বলভাবে জ্বলছে। তিনি বলেন, “আমার শৈশবের অধিকাংশ সময় কেটেছে রাজশাহী শহরে। আমাদের বাড়ি সেখানেই। শহরের পরিচিত এলাকার নাম সাগরপাড়া। তখন সেখানে মাত্র পাঁচটি বাড়ি ছিল, সবই আমাদের সম্প্রদায়ভুক্ত পরিবার। আমরা চার ভাই ও দুই বোন। চাচাত ভাই-বোনসহ মিলিয়ে মোট পরিবারের সদস্য সংখ্যা ছিল ২১।”
তিনি যোগ করেন, “ঈদের সময় আমরা নিজেদের মধ্যে মজা ও আনন্দ তৈরি করতাম। বাইরের কারো প্রয়োজন হতো না। আমরা নিজেদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ তৈরি করতাম।”
শৈশবে ঈদের দিন কী করতেন, জানতে চাইলে রফিকুল আলম হেসে বলেন, “আমরা ঘুড়ি উড়াতাম। এটি ছিল আমাদের প্রধান ক্রিয়া। আমার এক চাচাত ভাই ঘুড়ি বানানো জানতো। তাই ঈদের আগে ঘুড়ি তৈরি করতাম। ঈদের নামাজ শেষে আমরা সঙ্গে সঙ্গে ঘুড়ি নিয়ে মাঠে যেতাম এবং সারাদিন উড়াতাম।”
নতুন ঈদ পোশাকও সেই সময়ে একটি ঐতিহ্য ছিল। তিনি স্বীকার করেন, “পোশাক আমি নিজে নির্বাচন করতাম না। বাবা আমাকে দর্জির দোকানে নিয়ে যেতেন এবং কাপড় বেছে নিতেন। এর মাধ্যমে আমাদের ঈদ পোশাক তৈরি হতো। সেই স্মৃতিগুলো সত্যিই অবিস্মরণীয়।”
অবশ্য, পিতৃপরিবারে ঈদী (ঈদের উপহার) দেওয়ার রেওয়াজ ছিল না। তিনি বলেন, “আমাদের পরিবারে ঈদী দেওয়ার রেওয়াজ ছিল না, তবে মাতৃপরিবারে প্রচলিত ছিল। সেই সময় ঈদী পাওয়া সত্যিই আনন্দের ছিল। এখন অবশ্য আমাকে দেওয়া হয়—ইচ্ছে থাকুক বা না থাকুক।”
শৈশবের স্মৃতি মাঝে মাঝে দুঃখও বয়ে আনে। তিনি বলেন, “অতীতে অতিরিক্ত নস্টালজিক হওয়া চাই না। কিছুটা ভারাক্রান্ত মনে হয়। তাই সবসময় সেই স্মৃতিগুলো মনে করতে চাই না।”
এই ঈদ রফিকুল আলম ঢাকায় পরিবারসহ কাটাবেন। তিনি জানান, “এই ঈদ আমার পরিবারসহ ঢাকায় থাকব। পাশাপাশি নতুন একটি গানও প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে। গানটির সুর করেছেন ফোয়াদ নাসের বাবু, কথার লেখক মনিরুজ্জামান মনির। গানটি ইউটিউব চ্যানেল ও একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে সম্প্রচারিত হবে।”
রফিকুল আলম সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, “গানটি অত্যন্ত সুন্দরভাবে তৈরি হয়েছে।”
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| জন্মস্থান | রাজশাহী |
| শৈশব বাড়ি | সাগরপাড়া, রাজশাহী |
| পরিবারের সদস্য সংখ্যা | ২১ (ভাই-বোন ও চাচাত ভাইবোনসহ) |
| প্রধান শৈশবের ঈদ কার্যকলাপ | ঘুড়ি উড়ানো |
| নতুন ঈদ পোশাক নির্বাচন | পিতার মাধ্যমে দর্জির দোকান থেকে |
| ঈদী প্রথা | মাতৃপরিবারে প্রচলিত, পিতৃপরিবারে নেই |
| চলতি ঈদ উদযাপন | ঢাকায় পরিবারসহ |
| নতুন গান | সুর: ফোয়াদ নাসের বাবু, কথা: মনিরুজ্জামান মনির |
রফিকুল আলমের স্মৃতি ও সঙ্গীত যাত্রা প্রমাণ করে, শৈশবের সরল আনন্দ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য একসাথে জীবিত থাকতে পারে এবং তা প্রজন্মের মনে অমলিনভাবে বয়ে যেতে পারে।