খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬
ইরানের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আলী লারিজানি দেশ ও বিশ্ববাজারে তাঁর শক্তিশালী কূটনৈতিক ও সামরিক অবস্থানের জন্য পরিচিত। দীর্ঘকাল তিনি ইরানের ক্ষমতাকাঠামোর শান্ত ও বাস্তববাদী মুখ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফারসি ও পশ্চিমা দর্শনবিদ্যায় পারদর্শী লারিজানি জার্মান দার্শনিক ইমানুয়েল কান্টের ওপর গবেষণা করেছেন এবং পশ্চিমাদের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে সরাসরি আলোচনায় যুক্ত ছিলেন।
তবে ১ মার্চ ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পর্ষদের সেক্রেটারি লারিজানির রীতিমতো কঠোর ভাষণ প্রকাশিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিনি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে উপস্থিত হয়ে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদী শাসকগোষ্ঠী আমাদের জাতির হৃদয়ে আগুন জ্বালিয়েছে। আমরা তাদের হৃদয় পুড়িয়ে দেব এবং অপরাধীদের অনুশোচনা করতে বাধ্য করব।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি আরও লিখেছেন, “ইরানের সাহসী সেনারা ও মহান জাতি কুখ্যাত আন্তর্জাতিক নিপীড়কদের এমন শিক্ষা দেবে, যা তারা কখনো ভুলবে না।” লারিজানি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘ইসরায়েলি ফাঁদে’ পড়া হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
খামেনির মৃত্যুর পর গঠিত তিন সদস্যের অন্তর্বর্তী পর্ষদে লারিজানির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি ইরানের নিরাপত্তা কৌশল নির্ধারণে কেন্দ্রীয় দায়িত্বে থাকবেন।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| জন্ম | ৩ জুন ১৯৫৮, নাজাফ, ইরাক |
| পরিবারের পরিচয় | প্রভাবশালী ধর্মীয় পরিবার, টাইম ম্যাগাজিনের “ইরানের কেনেডি পরিবার” |
| শিক্ষাজীবন | গণিত ও কম্পিউটার প্রকৌশল (শরিফ ইউনিভার্সিটি), পশ্চিমা দর্শন (তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়), থিসিস: ইমানুয়েল কান্ট |
| পরিবার | স্ত্রী: ফারিদেহ মোরতাহারি, সন্তান: ফাতেমেহ লারিজানি (চিকিৎসাবিদ্যায় স্নাতক, যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষায়িত ডিগ্রি) |
লারিজানি ১৯৮০-এর দশকে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীতে (আইআরজিসি) যোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি সংস্কৃতিমন্ত্রী, রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা–আইআরআইবির প্রধান এবং ২০০৮–২০২০ সালের মধ্যে তিন মেয়াদে পার্লামেন্ট স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৫: প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রক্ষণশীল প্রার্থী
২০০৫: সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সেক্রেটারি
২০১৫: পারমাণবিক চুক্তি অনুমোদনে পার্লামেন্টে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
২০২৫: পুনরায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিষদের সেক্রেটারি নিযুক্ত
তিনি সম্প্রতি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) সঙ্গে সহযোগিতা চুক্তি বাতিল করেছেন এবং ঘোষণা দিয়েছেন যে সংস্থার প্রতিবেদনগুলো “কার্যকর নয়।” কূটনৈতিক আলোচনা, বিশেষ করে ওমানের মধ্যস্থতায় ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায়, তিনি ইসরায়েলকে “যুদ্ধ বাধানোর জন্য” কূটনৈতিক পদক্ষেপ ব্যর্থ করার অভিযোগ তুলেছেন।
লারিজানি সর্বশেষ ভাষণে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন যে সংবিধান অনুযায়ী পরবর্তী নেতৃত্ব নির্বাচন পরিকল্পিত। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তু হওয়া হলে ইরান পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত। তিনি স্পষ্ট করেছেন, আঞ্চলিক কোনো দেশকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হবে না, তবে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ঘাঁটি পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।
এই অবস্থায় লারিজানি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে “আগে কখনো দেখা যায়নি এমন শক্তি” দিয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর ভূমিকাকে কেবল ইরান নয়, সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।