খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপের আটটি দেশের ওপর শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন। গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত বিতর্কের জেরে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলেও, বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) বৈঠকে আলোচনার পর ট্রাম্প শুল্ক কার্যকর না করার ঘোষণা দেন।
আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস এবং ফিনল্যান্ড থেকে আমদানি হওয়া পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা ছিল। এছাড়া আগামী ১ জুন থেকে এই হার ২৫ শতাংশে উন্নীত হওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ঘোষণা অনুযায়ী, এই শুল্ক আরোপ স্থগিত করা হয়েছে।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, সুইজারল্যান্ডের দাভোসে গত বুধবার অনুষ্ঠিত ডব্লিউইএফ বৈঠকে ন্যাটোর মহাসচিব জেনস স্টলটেনবার্গের সঙ্গে তাঁর ‘ফলপ্রসূ’ বৈঠক হয়েছে। বৈঠকের ভিত্তিতে গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে একটি রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, “এই সমাধান চূড়ান্ত হলে তা যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর দেশগুলোর জন্য উপকারী হবে।”
ট্রাম্প আরও জানান, শুল্ক স্থগিত করার পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত ‘দ্য গোল্ডেন ডোম’ বিষয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বিশেষ দূতসহ আরও কয়েকজন এই আলোচনায় সরাসরি অংশগ্রহণ করবেন।
গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। ট্রাম্পের বক্তব্য, “উত্তর মেরুর আর্কটিক অঞ্চলে বরফ গলছে এবং রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি নিরাপত্তা ও প্রতিযোগিতার নতুন মাত্রা যোগ করছে। তাই খনিজসমৃদ্ধ গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই অঞ্চল দখলের জন্য যুক্তরাষ্ট্র বলপ্রয়োগ করবে না।
ট্রাম্পের শুল্ক পরিকল্পনা এবং তার স্থগিতাদেশের সংক্ষিপ্ত তথ্য নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:
| দেশ | ১ ফেব্রুয়ারি শুল্ক হার | ১ জুন শুল্ক হার (পরিকল্পিত) | স্থিতি |
|---|---|---|---|
| যুক্তরাজ্য | ১০% | ২৫% | স্থগিত |
| জার্মানি | ১০% | ২৫% | স্থগিত |
| ফ্রান্স | ১০% | ২৫% | স্থগিত |
| ডেনমার্ক | ১০% | ২৫% | স্থগিত |
| নরওয়ে | ১০% | ২৫% | স্থগিত |
| সুইডেন | ১০% | ২৫% | স্থগিত |
| নেদারল্যান্ডস | ১০% | ২৫% | স্থগিত |
| ফিনল্যান্ড | ১০% | ২৫% | স্থগিত |
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিকভাবে প্রশান্তি সৃষ্টিকারী হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি ন্যাটোর দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক মজবুত করতে সাহায্য করবে এবং আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা ইস্যুতে একটি সমন্বিত পদক্ষেপের দিকে নির্দেশ করবে।