খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় মধ্যরাতে স্থানীয় তিন ব্যবসায়ীর গুদামে অভিযান চালিয়ে আনুমানিক ৮শ বস্তা সরকারি চাল জব্দ করেছে পুলিশ। এসব চালের বস্তা পরে হেফাজতে নেওয়া হয় এবং অবৈধভাবে মজুদ ও বিক্রির বিষয়টি তদন্তের জন্য গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। অভিযানটি উপজেলা বলদিয়া ইউনিয়নের কাশিম বাজার এলাকায় পরিচালিত হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গুদামগুলোতে রাখা চালের মধ্যে খাদ্য অধিদপ্তরের সিলমোহর যুক্ত ৩০ কেজি বস্তা এবং কিছু স্থানীয় বস্তাও রয়েছে। তাৎক্ষণিক হিসাব অনুযায়ী, এই ৮শ বস্তা চালের মোট ওজন প্রায় ২০ মেট্রিকটন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযুক্ত ব্যবসায়ীরা পুলিশ আসার আগে পালিয়ে গেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জব্দকৃত চালগুলো মূলত ভিজিএফ (ভোজন নিরাপত্তা) বরাদ্দকৃত, যা গোপনে পাইকারদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছিল। স্থানীয় বাসিন্দা আলতাফ হোসেন বলেন, “চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা পাইকারদের কাছে চাল বিক্রি করেছে। পাইকাররা জনসম্মুখে বিতরণ করার সময় গুদাম থেকে চাল তুলে নিয়ে নিজেদের গুদামে রেখেছে। প্রকৃত গরীব মানুষ এখনো এই চাল পায়নি।”
অভিযোগ অস্বীকার করে বলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন, “আমাদের ইউনিয়নে ৬৪ টন ৫৩০ কেজি ভিজিএফ চাল সম্পূর্ণভাবে বিতরণ শেষ হয়েছে। এসব চাল কোথা থেকে এসেছে, তা আমার জানা নেই। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল সরাসরি ডিলারদের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়; ইউনিয়ন পরিষদ বা চেয়ারম্যানের মাধ্যমে নয়।”
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভূরুঙ্গামারী সার্কেল) মুনতাসির মামুন মুন বলেন, “আটক করা চালগুলো সরকারি। কয়েকটি গুদামে আনুমানিক ৮শটি সরকারি ও স্থানীয় বস্তা অবৈধভাবে মজুদ করা হয়েছিল। পুলিশি হেফাজতে এগুলো রাখা হয়েছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন জানান, “চালগুলো পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নিচের টেবিলে অভিযানের মূল তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| অভিযান স্থান | বলদিয়া ইউনিয়ন, কাশিম বাজার, ভূরুঙ্গামারী |
| অভিযুক্ত ব্যবসায়ী | ছমের আলী, রবিউল ইসলাম, সোনাউল্ল্যা মিয়া |
| জব্দকৃত চালের পরিমাণ | প্রায় ৮শ বস্তা (২০ মেট্রিকটন) |
| চালের ধরন | সরকারি ৩০ কেজি বস্তা সহ স্থানীয় বস্তা |
| অবৈধ ব্যবহারের অভিযোগ | পাইকারদের কাছে গোপনে বিক্রয় |
| পুলিশি পদক্ষেপ | চাল হেফাজতে, তদন্ত শুরু |
| স্থানীয় প্রতিক্রিয়া | চাষী ও সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ ও উদ্বিগ্ন |
| প্রশাসনিক মন্তব্য | চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদ বিতরণ অস্বীকার; পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে |
এই অভিযান স্থানীয় প্রশাসন এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সতর্কতা ও তৎপরতার দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। অবৈধভাবে সরকারি খাদ্যসামগ্রী মজুদ ও বিক্রির অভিযোগ প্রমাণিত হলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঘটনা স্থানীয় জনগণের মাঝে সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার ও স্বচ্ছতা বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেছে।