খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬
যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানে চলতি বছরে নওরোজ এবং ঈদুল ফিতর—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ উৎসব এক অভূতপূর্ব শোক, আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার আবহে উদযাপিত হচ্ছে। ঐতিহ্যগতভাবে আনন্দ, পারিবারিক মিলনমেলা এবং সাংস্কৃতিক উৎসবের যে উজ্জ্বল রূপ এ সময়টিকে ঘিরে থাকে, তা এবার অনেকটাই নিভে গেছে যুদ্ধের বিভীষিকায়।
নওরোজ, যা ইরানের নববর্ষ হিসেবে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে উদযাপিত হয়ে আসছে, সাধারণত রঙিন আয়োজন, আলোকসজ্জা এবং ‘আগুনের উৎসব’-এর মাধ্যমে শুরু হয়। বিশেষ করে নওরোজের প্রাক্কালে মানুষ রাস্তায় নেমে আগুন জ্বালিয়ে আনন্দ উদযাপন করে, যা অশুভ শক্তি দূর করার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু এ বছর সেই দৃশ্য প্রায় সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। রাজধানী তেহরানসহ বড় শহরগুলোতে জনসমাগম এড়িয়ে চলতে কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা বা নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি না হয়।
সরকারি নির্দেশনা ও নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে শুধু সাধারণ মানুষই নয়, শাসকগোষ্ঠীর সমর্থকরাও প্রকাশ্য কোনো উৎসব আয়োজন থেকে বিরত থেকেছে। ফলে দেশের সামগ্রিক পরিবেশে এক ধরনের নিস্তব্ধতা ও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে, যা উৎসবের স্বাভাবিক আনন্দকে সম্পূর্ণভাবে গ্রাস করেছে।
রাজনৈতিক বিভাজনের দুই পক্ষই বর্তমানে গভীর শোকে নিমজ্জিত। বিরোধী গোষ্ঠী গত জানুয়ারিতে সহিংসতায় প্রাণ হারানো হাজার হাজার মানুষের স্মরণে শোক পালন করছে। অন্যদিকে সরকারি সমর্থকরা সাম্প্রতিক প্রায় ২০ দিনের সংঘাতে নিহত প্রায় ১,৫০০ মানুষের মৃত্যু এবং শীর্ষ নেতাদের হত্যাকাণ্ডে গভীরভাবে শোকাহত। এই দ্বিমুখী শোকের আবহ পুরো জাতিকে একটি ভারাক্রান্ত মানসিক অবস্থায় আবদ্ধ করে রেখেছে।
উৎসবের সময় তেহরানের তাজরীশ বাজারের মতো ব্যস্ত এলাকাগুলোতে নিহত শিশুদের ছবি প্রদর্শন করা হচ্ছে, যা মানুষের মনে যুদ্ধের নির্মম বাস্তবতা বারবার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। এসব দৃশ্য সাধারণ মানুষের মনে গভীর বেদনা ও অসহায়ত্বের অনুভূতি তৈরি করছে।
নিচের সারণিতে বর্তমান পরিস্থিতির কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | বর্তমান অবস্থা |
|---|---|
| উৎসবের পরিবেশ | সীমিত, নিস্তব্ধ ও শোকাবহ |
| জনসমাগম | কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত |
| নওরোজ উদযাপন | প্রায় অনুপস্থিত |
| নিহতের সংখ্যা (সাম্প্রতিক সংঘাত) | প্রায় ১,৫০০ |
| জানুয়ারির সহিংসতায় হতাহত | হাজার হাজার |
| সাধারণ মানুষের অবস্থা | আতঙ্কিত ও ঘরবন্দি |
সব মিলিয়ে, এবারের নওরোজ ও ঈদুল ফিতর ইরানিদের জন্য আনন্দের নয়, বরং গভীর শোক, সতর্কতা এবং আত্মসংযমের সময় হয়ে উঠেছে। অধিকাংশ পরিবারই ঘরের ভেতরে সীমিত পরিসরে প্রার্থনা ও স্মরণে এই দিনগুলো অতিবাহিত করছে। যুদ্ধের ভয়াবহতা তাদের জীবনের স্বাভাবিক ছন্দকে ভেঙে দিয়েছে, আর উৎসবের আলোকে ঢেকে দিয়েছে এক গভীর অন্ধকার।