খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬
ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, “যেসব এলাকায় মাদক ও জুয়া নিয়ন্ত্রণে থাকবে, সেসব এলাকায় সরকার উন্নয়ন ও সহযোগিতায় অগ্রাধিকার দেবে। কিন্তু মাদকসেবী বা ব্যবসায়ীদের কোনো প্রকার সহায়তা দেওয়া হবে না।”
আজ সোমবার সকাল ১০টায় কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট সীমান্তবর্তী ঐতিহ্যবাহী সিন্দুরমতী পুকুরপাড়ে মেলার প্রস্তুতিমূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী দুলু সিন্দুরমতী পুকুরকে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেন। তিনি জানান, “ঢাকা থেকে আর্কিটেক্টদের দল আনা হয়েছে, যারা পুকুরের চারপাশকে আধুনিক, পরিকল্পিত এবং দর্শণীয়ভাবে সাজানোর কাজ করছে। আমরা চাই দর্শনার্থীরা একটি মনোমুগ্ধকর ও নিরাপদ পরিবেশ উপভোগ করুক।”
মন্ত্রী আরও বলেন, আসন্ন সিন্দুরমতী মেলায় সার্কাস, মাদক ও জুয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। এতে মেলার স্বাভাবিক ও ধর্মীয় পরিবেশ বজায় থাকবে। তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন, “আমরা চাই লালমনিরহাটকে একটি আলোকিত জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে। এজন্য মাদক ও জুয়া সহ সব ধরনের অপকর্ম বন্ধে প্রশাসন ইতোমধ্যেই কার্যক্রম শুরু করেছে। আমাদের স্বাধীনতার মূলমন্ত্র হলো—সকল ধর্ম ও মানুষের জন্য সমতা ও নিরাপত্তা।”
মন্ত্রী দুলু পুকুরের বর্তমান অবস্থার কথা তুলে ধরে বলেন, “অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত মন্দির ও দোকানপাট পুকুরের সৌন্দর্য নষ্ট করেছে। আমরা এগুলো অপসারণ করে একটি সুপরিকল্পিত ক্যাম্পাসের মধ্যে মন্দির স্থাপন করব। বেদখল হওয়া জায়গাগুলো সরকারি সার্ভেয়ার দিয়ে উদ্ধার করা হবে। মন্দিরগুলো আধুনিক ও দর্শণীয় করে গড়ে তোলা হবে, যাতে পর্যটক ও ভক্তরা মনোমুগ্ধ হন।”
সভায় নেতৃবৃন্দ এবং কর্মকর্তা পর্যায়ের উপস্থিতি এবং তাদের বক্তব্যের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নে দেওয়া হলো—
| নাম ও পদবী | বক্তব্যের মূল বিষয় |
|---|---|
| কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেব নাথ | মেলার নিরাপত্তা ও স্থানীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করা |
| কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি | আইন শৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে নজরদারি |
| লালমনিরহাট জেলা পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান | মেলার সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিকল্পনা |
| রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল ইমরান | পুকুরপাড়ের ভ্রাম্যমাণ ও পর্যটন ব্যবস্থাপনা |
| রাজারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ মামনুর রশিদ | স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা এবং জননাগরিক সেবা নিশ্চিতকরণ |
| লালমনিরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আ. মতিন | নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক সহযোগিতা |
মন্ত্রী আরও নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “জুলাই আন্দোলনের পর বাংলাদেশ আর আগের মতো থাকবে না। আমরা একটি সাম্যভিত্তিক, অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক দেশ গড়ে তুলতে চাই। প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য বাস্তবায়নে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী শুক্রবার (২৭ মার্চ) অনুষ্ঠিতব্য ঐতিহ্যবাহী সিন্দুরমতী মেলায় দেশ-বিদেশ থেকে হাজারো ভক্ত ও দর্শনার্থী অংশগ্রহণ করবেন। সভায় হাজারো নারী-পুরুষের ঢল নামে, মন্ত্রীর বক্তব্যকে সরাসরি শোনার জন্য।
মন্ত্রীর এই বার্তা স্পষ্টভাবে নির্দেশ করছে—মাদক ও জুয়া নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা, পর্যটন উন্নয়ন এবং স্থানীয় জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়। এটি শুধুমাত্র আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পদক্ষেপ নয়, বরং সংস্কৃতি ও পর্যটন উন্নয়নের সঙ্গে সংযুক্ত একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ।
সংক্ষেপে মূল বার্তা:
| বিষয় | ঘোষণা ও পদক্ষেপ |
|---|---|
| মাদক ও জুয়া নিয়ন্ত্রণ | কঠোর পদক্ষেপ, সরকারী সহযোগিতা শুধুমাত্র নিয়মিত এলাকায় |
| সিন্দুরমতী পুকুর উন্নয়ন | আধুনিকায়ন, পরিকল্পিত ক্যাম্পাস, পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা |
| আসন্ন মেলা | সার্কাস, মাদক ও জুয়া নিষিদ্ধ, নিরাপদ ও ধর্মীয় পরিবেশ নিশ্চিত |
| প্রশাসনিক সমন্বয় | জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও স্থানীয় নেতাদের সমন্বিত উদ্যোগ |
মন্ত্রীর পদক্ষেপ ও বক্তব্য সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, পর্যটন উন্নয়ন ও স্থানীয় শান্তি বজায় রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।