নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক সাম্প্রতিক ঘোষিত ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকিতে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত, বিশেষ করে রেডিমেড গার্মেন্টস (RMG) শিল্প। এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের উপর মোট শুল্ক দাঁড়াবে প্রায় ৫০ শতাংশ, যা বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা টিকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব করে তুলবে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদ ও শিল্প সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমানে বাংলাদেশি পোশাকপণ্যে মার্কিন বাজারে গড়ে ১৫–১৬ শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য। এর সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত ৩৫% অতিরিক্ত শুল্ক যুক্ত হলে তা দাঁড়াবে প্রায় ৫০ শতাংশে। অথচ ভিয়েতনাম ও ভারতসহ প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো অনেক কম হারে শুল্ক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করছে—ভিয়েতনামের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ২০ শতাংশের মতো।
এই বৈষম্যমূলক শুল্ক কাঠামোর ফলে মার্কিন আমদানিকারকরা বাংলাদেশের পরিবর্তে ভারত, ভিয়েতনাম ও শ্রীলঙ্কার মতো বিকল্প উৎসে ঝুঁকে পড়তে পারেন। ইতোমধ্যে এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে আন্তর্জাতিক শেয়ারবাজারেও—ভারতে টেক্সটাইল কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম গত শনিবার ৮ শতাংশেরও বেশি বেড়ে গেছে।
বাংলাদেশের রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশই আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে, যেখানে কয়েক মিলিয়ন শ্রমিক কাজ করে—এদের অধিকাংশই নারী। রপ্তানি হ্রাস পেলে গার্মেন্টস শিল্পে ব্যাপকভাবে কর্মসংস্থান সংকুচিত হতে পারে।
এছাড়া উপকরণ, প্যাকেজিং, পরিবহন ও খুচরা সরবরাহসহ সমগ্র সাপ্লাই চেইনেই ধাক্কা লাগবে। এতে শুধু রপ্তানি খাত নয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সংকট উত্তরণের জন্য সময়োচিত কূটনৈতিক তৎপরতা, বুদ্ধিদীপ্ত বাণিজ্য কৌশল এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বিত অবস্থান গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। আগামী ১ আগস্টের আগেই যদি কার্যকর সমাধানে পৌঁছানো না যায়, তবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাত মুখোমুখি হতে পারে এক গভীর অর্থনৈতিক ধাক্কার।
খবরওয়ালা/এমএজেড