খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
রাঙামাটির নানিয়ারচর থেকে চট্টগ্রামগামী একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গিয়ে অন্তত ১৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালবেলায় রাঙামাটি সদর উপজেলার সাপছড়ি এলাকায় এ ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং আশপাশের মানুষ দ্রুত উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, পাহাড়ি ঢাল ও আঁকাবাঁকা সড়কের একটি অংশে বাসটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারায়। দ্রুতগতিতে চলমান অবস্থায় চালক নিয়ন্ত্রণ রাখতে ব্যর্থ হলে বাসটি সড়কের পাশে উল্টে যায়। এতে বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীরা ছিটকে পড়ে আহত হন এবং অনেকে আটকে পড়েন। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতালে পাঠান।
প্রাথমিকভাবে আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেলেও বেশিরভাগই প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ শুরু করে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সাপছড়ি এলাকার সড়কটি পাহাড়ি হওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে অতিরিক্ত গতি, বাঁকানো রাস্তা এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এমন দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে বলে তারা অভিযোগ করেন। তারা সড়কটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বাসটির যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কিনা কিংবা চালকের বেপরোয়া গতির কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি পরিবহন কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| দুর্ঘটনার স্থান | সাপছড়ি, রাঙামাটি সদর |
| তারিখ ও সময় | বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ (সকাল) |
| বাসের রুট | নানিয়ারচর থেকে চট্টগ্রাম |
| দুর্ঘটনার ধরন | নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস উল্টে যাওয়া |
| আহতের সংখ্যা | অন্তত ১৫ জন |
| উদ্ধার কার্যক্রম | স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগ |
| বর্তমান অবস্থা | আহতদের চিকিৎসা চলছে, তদন্ত অব্যাহত |
দুর্ঘটনার পর সড়কটিতে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে উদ্ধারকারী দল বাসটি সরিয়ে নিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তবে স্থানীয়রা বলছেন, পাহাড়ি রুটে নিয়মিত নজরদারি ও চালকদের প্রশিক্ষণ জোরদার না করলে এ ধরনের দুর্ঘটনা কমানো কঠিন হবে।
এই ঘটনার পর আবারও পাহাড়ি সড়ক নিরাপত্তা ও গণপরিবহনের ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।