খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
বাংলাদেশে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিযুক্ত পুরোনো নোট আবারও সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় সরকার এই নোটগুলো সিলগালা করে রেখে বাজারে বিতরণ বন্ধ রেখেছিল। এর ফলে নতুন নকশার নোট বাজারে আনাই হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন সেই সিলগালা নোট ধীরে ধীরে পুনরায় বাজারে ছাপানো হচ্ছে, যা নিয়ে বিভিন্ন অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এই নোট বিতরণের বিষয়ে সোনালী ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, “২০২৫ সালের ঈদুল আযহার সময়ে পুরোনো নোটের বিতরণ বন্ধ করা হয়েছিল। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে তা উদ্ধার করা হয়। এরপর থেকেই আমরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে নোটগুলো বাজারে ছাড়ছি।”
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, “যেহেতু এই নোটগুলো নিষিদ্ধ করা হয়নি, তাই বাজারে বিতরণের কোনো বাধা নেই। নতুন নকশার নোটের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় পুরোনো নোটগুলো বাজারে আনা হচ্ছে। এতে জনগণকে প্রয়োজনীয় নগদ সুবিধা পাওয়া সহজ হচ্ছে।”
নোট বিতরণের পেছনে আরও একটি কারণ হলো নতুন নকশার নোট ছাপানোর ধীরগতি। বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন নোট ছাপাতে গিয়ে চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে পারছিল না। এই ঘাটতি পূরণে পুরোনো নোটগুলো বাজারে ছাড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ঐতিহাসিক প্রসঙ্গে বলা যায়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ মুজিবের ভাস্কর্য ভেঙে ফেলা হয়। পরে অন্তর্বর্তী সরকার শেখ মুজিবের ছবিযুক্ত নোট বাজারে না ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়, যার ফলে নতুন নকশার নোট প্রচলন শুরু হয়।
বর্তমানে বাজারে পুরোনো নোট ছাপানো হলেও তা সিলগালা অবস্থায় রাখা হচ্ছে এবং ধীরে ধীরে ছাপানো হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি সরকারের নগদ সরবরাহ নিশ্চিত করার একটি কৌশল এবং বাজারে নতুন নোট ছাপানোর ধীর গতির কারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।
নিচে বর্তমান নোট বিতরণের মূল বিষয়গুলো টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| নোটের ধরন | শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিযুক্ত পুরোনো নোট |
| বিতরণের অবস্থা | সিলগালা অবস্থায় বাজারে ছাড়ানো হচ্ছে |
| কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবস্থান | নিষিদ্ধ নয়, তাই বিতরণে বাধা নেই |
| নতুন নকশার নোট | চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম |
| বিতরণের কারণ | নগদ ঘাটতি পূরণ ও বাজার চাহিদা মেটানো |
| বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান | সোনালী ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংক |
| বিতরণের সময়কাল | ২০২৫ সালের ঈদুল আযহার পর থেকে |
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাজারে পুরোনো নোটের পুনর্বিতরণ আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নগদ চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে নতুন নোট ছাপানোর ধীরগতি এবং পুরোনো নোটের উচ্চমূল্য বাজারে উপস্থিতি নিয়ে নানা প্রশ্নও উঠছে।
সার্বিকভাবে, এই উদ্যোগ নগদ ব্যবস্থাপনা ও বাজারের চাহিদা সামঞ্জস্য রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।