রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় ভয়াবহ বাসডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে টানা তৃতীয় দিনের মতো উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। দুর্ঘটনার পর থেকে ফায়ার সার্ভিস, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সমন্বিত ডুবুরি দল নিরবচ্ছিন্নভাবে পদ্মা নদীর বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে। শুক্রবার সকাল থেকেই দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাট ও আশপাশের বিস্তীর্ণ নদী এলাকায় অভিযান জোরদার করা হয়।
উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেওয়া সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নদীপথে চলাচলরত নৌযান ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা চেয়েছে। কোস্টগার্ড মাইকিং করে জানায়, নদীতে কোনো মৃতদেহ বা ভাসমান বস্তু চোখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার জন্য। এতে করে অনুসন্ধান প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করার চেষ্টা চলছে।
দুর্ঘটনার পর এ পর্যন্ত নারী, শিশু এবং বাসচালকসহ মোট ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রশাসন মরদেহগুলো যথাযথ প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে। উদ্ধার হওয়া লাশের অধিকাংশই স্থানীয় ও আশপাশ জেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
উদ্ধার পরিস্থিতির সংক্ষিপ্ত চিত্র
| বিষয় |
তথ্য |
| দুর্ঘটনার তারিখ |
২৫ মার্চ, বিকাল প্রায় ৫:৩০ |
| স্থান |
দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাট |
| মোট উদ্ধার মরদেহ |
২৬ জন |
| নিখোঁজ দাবি |
১ জন (অপ্রমাণিত) |
| উদ্ধার কার্যক্রম |
তৃতীয় দিন পর্যন্ত চলমান |
| সংশ্লিষ্ট সংস্থা |
ফায়ার সার্ভিস, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড |
ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটি দুর্ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ, নিরাপত্তা ঘাটতি এবং দায়ীদের চিহ্নিত করতে কাজ করছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাসটি ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে নদীতে পড়ে যায়।
রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা জানিয়েছেন, তৃতীয় দিনের অভিযানেও ডুবুরি দল সর্বোচ্চ সতর্কতা ও গুরুত্ব দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কোনো নিখোঁজ ব্যক্তির তথ্য পাওয়া যায়নি। এক নারী তার ভাই নিখোঁজ বলে দাবি করলেও তিনি ওই বাসের যাত্রী ছিলেন কিনা, সে বিষয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ দিতে পারেননি।
তবুও সম্ভাব্য সব দিক বিবেচনায় রেখে অনুসন্ধান কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত তল্লাশি কার্যক্রম বন্ধ করা হবে না। এই দুর্ঘটনা আবারও নদীপথে যাত্রী পরিবহনে নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা সামনে নিয়ে এসেছে।