খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
শনিবার দুপুর। রাজশাহীর রামচন্দ্রপুর নদীর ধারের বস্তির মাঠজুড়ে চোখে পড়ছে ভেজা কাপড়, যা ধোয়া হয়ে রোদে শুকাচ্ছে। মাঠের এক পাশে মা-মেয়ে বসে চুল চিরুনি করছেন। মেয়ে জিজ্ঞেস করছে, “কাল মিছিলে গ্যালা ট্যাকা কই?” মা উত্তর দিচ্ছেন, “আজ গেলে একসঙ্গে দিবে না।”
নির্বাচনকালীন সময় বস্তির বাসিন্দাদের জন্য রাজনৈতিক মিছিলের ডাক আসা মানে এক ধরনের মৌসুমি আয়। এবার মিছিলে যোগদানের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এক দিন ৫০ টাকা দেওয়া হচ্ছে। তবে যদি মিছিলে লোকসংখ্যা বেশি হয়, বরাদ্দ কমিয়ে ৪০ টাকা দেওয়া হচ্ছে। গত সাত দিন ধরে বস্তির নারী ও পুরুষরা নিয়মিত এই মিছিলে যাচ্ছেন।
৮০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা জানান, তিন বছর আগে স্বামী মারা গেছে। মেয়ে ও ছেলে এখন বিভিন্নভাবে সংসার চালাচ্ছেন। নিজে চলতে অক্ষম হওয়ায় মিছিলে ডাক পেলেই তিনি বাধ্য হয়ে যাচ্ছেন। একইভাবে ৬৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি, যার একটি হাত অচল, মিছিলে যান দুই ছেলে ও স্ত্রীকে সহায়তার জন্য। তিনি বলেন, “একদিন গেলে ৫০ টাকা, দুইজন গেলে ১০০ টাকা, তবে সব সময় সব টাকা একসঙ্গে দেওয়া হয় না।”
স্থানীয়দের কথায়, সিটি করপোরেশন নির্বাচন বা কাউন্সিলর প্রার্থী উপস্থিত হলে মিছেলের ভাড়া কিছুটা বেশি হয়। ভোটের প্রতি তাদের ন্যূনতম প্রভাব থাকলেও পেটের দায়ে মিছিলে যোগ দেন। একজন স্থানীয় বিএনপি নেতা বলেন, “এই এলাকার অনেক নারী-পুরুষের জন্য মিছিলই একবেলা খাওয়ার ব্যবস্থা। বরাদ্দ কম, তাই ৫০ টাকা দৈনিক দেওয়া হচ্ছে। পুরানো দিনে এক সঙ্গে টাকা দেওয়া হতো না।”
নিম্নে বস্তির মিছেলের ভাড়ার একটি সারসংক্ষেপ টেবিল দেওয়া হলো:
| অংশগ্রহণকারীর ধরন | মিছিলের দিন | দৈনিক ভাড়া | টাকার বিতরণ পদ্ধতি | মন্তব্য |
|---|---|---|---|---|
| নারী (মৌলিক আয় নির্ভর) | ৭ দিন | ৫০ টাকা | একদিন হাতে রেখে দেয় | পরিবারের দৈনিক খরচের জন্য |
| পুরুষ (বৃদ্ধ/অক্ষম) | ২–৩ দিন | ৫০–১০০ টাকা | একসঙ্গে নয়, একদিন ধরে দেওয়া হয় | সংসারের দৈনিক দায়িত্বে ব্যবহার |
| দম্পতি (একসাথে) | ২ দিন | ১০০ টাকা | একদিন ধরে দেওয়া | পরিবারের সহায়তায় |
বস্তির মানুষদের জন্য মিছিল শুধু রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নয়, এটি আয়-উপার্জনের একটি মাধ্যম। অধিকাংশই পরিবার ও পেটের দায়ে যোগ দেন। তাঁদের জীবনের দৈনন্দিন সংগ্রাম, স্বাস্থ্যসেবা ও খাদ্য প্রয়োজন মিছেল ভাড়ার উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল।