খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
জাতিসংঘে কর্মরত একটি পর্যবেক্ষক সংস্থার স্থায়ী প্রতিনিধি মোহামাদ সাফার সাম্প্রতিক পদত্যাগ এবং বিস্ফোরক অভিযোগ আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। তিনি প্রায় ১২ বছরের কূটনৈতিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়ে দাবি করেছেন যে, জাতিসংঘ ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সাফা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলেন, তিনি মনে করেন না যে বিশ্ব পরিস্থিতির গুরুত্ব পুরোপুরি উপলব্ধি করছে। তার ভাষায়, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এমন এক পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে ইরানে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের মতো ভয়াবহ ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি বিশেষভাবে তেহরানের মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে প্রায় এক কোটি মানুষের বসবাস রয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, এই তথ্য ফাঁস করার কারণে তিনি নিজের কূটনৈতিক ক্যারিয়ার ত্যাগ করেছেন এবং এমন এক অবস্থার সাক্ষী বা অংশ হতে চান না যা মানবতাবিরোধী অপরাধে পরিণত হতে পারে। তার ভাষায়, “নিউক্লিয়ার উইন্টার” বা পারমাণবিক শীতের মতো বৈশ্বিক বিপর্যয় রোধে তিনি পদত্যাগকে নৈতিক সিদ্ধান্ত হিসেবে নিয়েছেন।
সাফার অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক কাঠামোর ভেতরে মত প্রকাশে বাধার মুখোমুখি হয়েছেন। তার দাবি, প্রভাবশালী কিছু গোষ্ঠীর চাপের কারণে ভিন্নমত দমন করা হয় এবং নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ব্যাখ্যাকে সামনে আনা হয়। তিনি আরও বলেন, গাজা ও লেবাননের পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর অবস্থানও বিতর্কিত এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগকে যথাযথভাবে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী মূল্যায়ন করা হচ্ছে না।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে তিনি ও তার পরিবার একাধিকবার হুমকির মুখে পড়েছেন। তার দাবি অনুযায়ী, ইরানকে ঘিরে পারমাণবিক হুমকির যে বয়ান আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে, তা অনেকাংশে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অতিরঞ্জিত।
এদিকে, পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে কর্মরত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-এর একজন শীর্ষ কর্মকর্তা হানান বালখি পৃথক এক সাক্ষাৎকারে জানান, সংস্থাটি সম্ভাব্য বৃহৎ পরিসরের পারমাণবিক ঘটনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এমন পরিস্থিতি ঘটলে মানবিক ও স্বাস্থ্যগত ক্ষতির মাত্রা হবে দীর্ঘমেয়াদি ও ভয়াবহ, যা কয়েক দশক পর্যন্ত প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য ও পাল্টা অভিযোগ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে উত্তেজনা বাড়াতে পারে, তবে এগুলোর স্বাধীন ও নিরপেক্ষ যাচাই ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়।
নিচে প্রধান বক্তব্য ও অবস্থানগুলো সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | মোহামাদ সাফার দাবি | জাতিসংঘ/বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অবস্থান |
|---|---|---|
| পারমাণবিক প্রস্তুতি | ইরানে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতি চলছে | আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয় |
| মত প্রকাশের স্বাধীনতা | ভিন্নমত দমন ও চাপ প্রয়োগের অভিযোগ | আনুষ্ঠানিক মন্তব্য নেই |
| মানবিক ঝুঁকি | পারমাণবিক শীতের আশঙ্কা | ব্যাপক মানবিক বিপর্যয়ের সতর্কতা |
| আঞ্চলিক পরিস্থিতি | রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা | জরুরি প্রস্তুতি ও ঝুঁকি মূল্যায়ন |
এই বিতর্ক আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে কূটনৈতিক চাপ ও নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করেছে, যা ভবিষ্যতে আরও আলোচনার জন্ম দিতে পারে।