খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
কলম্বিয়ার বিপক্ষে ৩-১ গোলের দারুণ জয়ে নিজেদের শক্তিমত্তার আরেকটি প্রমাণ দিয়েছে ফ্রান্স। তবে এই ম্যাচে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে তাদের বদলি খেলোয়াড়দের (বেঞ্চ) অবিশ্বাস্য শক্তি ও গভীরতা। ম্যাচ শুরুর আগেই কোচ দিদিয়ের দেশম বড় ধরনের চমক দেন—ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলা একাদশ থেকে প্রায় পুরো দলই পরিবর্তন করেন তিনি। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে এমন বড় রদবদল হলেও ফরাসি দলে কোনো ছন্দপতন দেখা যায়নি।
এই ম্যাচে তরুণ ফরোয়ার্ড দিজিরে দুয়ে জোড়া গোল করে নজর কাড়েন। পাশাপাশি মধ্যমাঠে ওয়ারেন জায়ার এমিরির দারুণ নিয়ন্ত্রণ ও গতিময়তা প্রমাণ করে যে, সুযোগ পেলে তিনি যে কোনো বড় তারকার সমান পারফরম্যান্স দিতে সক্ষম। ফলে ফ্রান্সের দ্বিতীয় সারির খেলোয়াড়রাও মূল একাদশের মতোই কার্যকর—এটি আবারও স্পষ্ট হয়েছে।
বর্তমানে পিএসজির ব্র্যাডলি বারকোলা, বার্সেলোনার জুলেস কুন্দে এবং আর্সেনালের উইলিয়াম সালিবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়রা চোটের কারণে বাইরে থাকলেও ফ্রান্সের স্কোয়াডে গভীরতার কোনো ঘাটতি দেখা যাচ্ছে না। বরং তাদের অনুপস্থিতিতেও দলটি শক্তিশালীভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
ব্রাজিল ম্যাচের মূল একাদশকে ভিত্তি ধরে দেখা হলে বদলি বেঞ্চের খেলোয়াড়দের মোট বাজারমূল্য প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন ইউরো, যা ফুটবলবিশ্বে অত্যন্ত ব্যতিক্রমী ও বিস্ময়কর একটি সংখ্যা। তরুণ প্রতিভা ও অভিজ্ঞতার মিশেলে গড়া এই বেঞ্চ ফ্রান্সকে ভবিষ্যতের বড় প্রতিযোগিতাগুলোতে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে।
| বিভাগ | খেলোয়াড় | বাজারমূল্য (মিলিয়ন ইউরো) |
|---|---|---|
| গোলরক্ষক | ব্রাইস সাম্বা | ৮ |
| গোলরক্ষক | লুকাস শেভালিয়ে | ৩০ |
| ডিফেন্ডার | ম্যাক্সেন্স ল্যাক্রোইক্স | ৪০ |
| ডিফেন্ডার | লুকাস হার্নান্দেস | ২০ |
| ডিফেন্ডার | লুকাস ডিগনে | ৮ |
| ডিফেন্ডার | পিয়েরে কালুলু | ৩২ |
| মিডফিল্ডার | এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা | ৫০ |
| মিডফিল্ডার | এনগোলো কান্তে | ৪.৫ |
| মিডফিল্ডার | ওয়ারেন জায়ার এমিরি | ৬০ |
| মিডফিল্ডার | ম্যাগনেস আকলিওচে | ৫০ |
| মিডফিল্ডার | রায়ান শেরকি | ৬৫ |
| ফরোয়ার্ড | দিজিরে দুয়ে | ৯০ |
| ফরোয়ার্ড | মার্কাস থুরাম | ৫০ |
| ফরোয়ার্ড | র্যান্ডাল কোলো মুয়ানি | ২২ |
২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কাছে শিরোপা হারানোর পর ফ্রান্স দল পুনর্গঠনের পথে এগোচ্ছে। কোচ দিদিয়ের দেশম এখন তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ স্কোয়াড তৈরি করতে চাইছেন, যাতে ভবিষ্যতের বিশ্বকাপে শিরোপা পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়।
এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই তিনি নিয়মিত একাদশে পরিবর্তন এনে বিভিন্ন খেলোয়াড়কে পরীক্ষা করছেন। এতে একদিকে যেমন নতুনদের সুযোগ মিলছে, অন্যদিকে পুরো দলই একটি শক্তিশালী প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে গড়ে উঠছে।
সব মিলিয়ে কলম্বিয়ার বিপক্ষে জয় শুধু একটি সাধারণ প্রীতি ম্যাচের ফল নয়; বরং এটি ফ্রান্সের গভীরতা, প্রতিভা এবং ভবিষ্যতের বিশ্বমঞ্চে আধিপত্যের সম্ভাবনার একটি স্পষ্ট বার্তা। শক্তিশালী বেঞ্চ এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণে ফ্রান্স এখন আবারও বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করছে।