খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
২০০৪ সালের করাচির ভয়াবহ ঘটনার স্মৃতিচারণ করলেন ভারতের প্রখ্যাত সংগীত শিল্পী সনু নিগম। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক পুরনো ভিডিওতে তিনি জানান, সেইদিন সন্ত্রাসী হামলার মুখে পড়েও স্থানীয় দর্শকরা তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছিলেন। এই অভিজ্ঞতা তার জীবনে গভীর প্রভাব রেখেছে।
সনু নিগম ২০০৪ সালের ১০ মার্চ পাকিস্তানের করাচিতে আয়োজিত একটি কনসার্টে উপস্থিত হন। হাজার হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানস্থল প্রাণবন্ত ছিল। হঠাৎই কাছাকাছি এলাকায় একটি শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের কারণে হতাহতের ঘটনা ঘটে এবং চারপাশে আতঙ্কের ছায়া নেমে আসে।
এমন পরিস্থিতিতেও সনু মঞ্চ ছাড়েননি। দর্শকদের আশ্বস্ত করে তিনি গান পরিবেশন চালিয়ে যান। ‘কাল হো না হো’, ‘ম্যায় হুঁ না’ এবং ‘বীর জারা’সহ তার জনপ্রিয় গানগুলো পরিবেশন করে কনসার্টকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, দর্শকদের সাহস ও সমর্থনই তাকে সংকট মোকাবিলায় অনুপ্রাণিত করেছিল।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য
| তারিখ | স্থান | ঘটনা | দর্শকদের প্রতিক্রিয়া |
|---|---|---|---|
| ১০ মার্চ ২০০৪ | করাচি, পাকিস্তান | কনসার্ট চলাকালীন বিস্ফোরণ | সাহসী সমর্থন, শিল্পীকে রক্ষা |
| উপস্থিতি | ~৫,০০০ জন | আতঙ্কের মধ্যেও অনুষ্ঠান চালানো | একত্রিত হয়ে সমর্থন প্রদর্শন |
সনু স্মরণ করেন, বিস্ফোরণের পর তিনি কিছুটা ভয়ভীত হলেও দর্শকদের সমর্থন তাকে দৃঢ়ভাবে উৎসাহিত করেছিল। মঞ্চ থেকে তিনি দর্শকদের প্রশ্ন করেন, অনুষ্ঠান চালিয়ে যেতে চান কিনা—যার উত্তরে তারা সমানভাবে ইতিবাচক সাড়া দেন। দর্শকদের এই সাহসিকতার কারণে কনসার্টটি সঙ্কটপূর্ণ পরিস্থিতিতেও সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
সনু আরও জানান, সেই দিনের পর থেকে প্রতি বছর ১০ মার্চ তিনি আয়োজকদের কাছে বার্তা পাঠান। বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন যে, সন্ত্রাসী হামলার মধ্যে সাধারণ পাকিস্তানি দর্শকরা তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এগিয়ে এসেছিলেন।
বর্তমানে ভারত-পাকিস্তানের সাংস্কৃতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক অনেকাংশে স্থবির থাকলেও, ওই ঘটনার ভিডিও নতুন করে দুই দেশের সংগীতপ্রেমীদের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয় যে, সেদিনের পরিবেশিত গানগুলো আজও দুই দেশের শ্রোতাদের মধ্যে সমানভাবে জনপ্রিয়।
সনু নিগমের স্মৃতিচারণ শুধুমাত্র এক শিল্পীর সাহসিকতা নয়, বরং এটি মানুষের আন্তরিকতা ও সঙ্গীতের ঐক্যের প্রতীক। ভয়, বিভ্রান্তি এবং রাজনৈতিক সীমারেখা অতিক্রম করেও মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সহমর্মিতা কতটা দৃঢ় হতে পারে, তার প্রমাণ সেই কনসার্টের রাতেই দেখা গেছে।
সেই রাতটি আজও করাচি ও ভারতের সংগীতপ্রেমীদের মনে অমলিন স্মৃতি হিসেবে রয়ে গেছে।