খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
নওগাঁ শহরের বরুনকান্দি মোড়ে একটি গ্যারেজে মেরামতের জন্য রাখা বাসের ভেতর থেকে ২২ বছর বয়সী জাহিদ ইসলাম নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে নওগাঁ সদর থানা–পুলিশের তৎপরতায় এই লাশ উদ্ধার করা হয়।
জাহিদ ইসলাম মান্দা উপজেলার তুলশীরামপুর গ্রামের মৃত ইব্রাহিমের ছেলে। তিনি প্রায় এক বছর ধরে বি আর সুপার পরিবহন নামের বাসের চালকের সহকারী হিসেবে কাজ করছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দারা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার ওই বাসটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। বাসটি মেরামতের জন্য শহরের বরুনকান্দি মোড়ে কালু নামের এক গ্যারেজে আনা হয়। সেখানে বাসটির ইঞ্জিন মেরামতের কাজ চলছিল।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জাহিদ এবং তার সহকর্মী ইউসুফ সোমবার রাতেই বাসের ভেতর ঘুমিয়ে পড়েন। মঙ্গলবার ভোরে ইউসুফ তাঁকে ঘুম থেকে জাগানোর চেষ্টা করলে কোনো সাড়া পাননি। পরে বিষয়টি নওগাঁ সদর থানাকে জানানো হয়। পুলিশ এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং বেলা ১১টার দিকে জাহিদের মৃতদেহ উদ্ধার করে।
নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, “সংবাদ পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ এবং অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করেছি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। লাশে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর প্রকৃতি স্বাভাবিক নাকি অন্য কোনো কারণে, তা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন আসার পর নিশ্চিতভাবে বলা যাবে। তবে, এ ঘটনায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাহিদ একজন পরিশ্রমী ও শান্ত স্বভাবের যুবক ছিলেন। পরিবার সূত্রে জানা যায়, তিনি রাতের খাবারের পর বিশেষ কোনো অসুস্থতার লক্ষণ দেখাননি।
নিচের টেবিলে ঘটনায় প্রাথমিক তথ্য সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নিহতের নাম | জাহিদ ইসলাম |
| বয়স | ২২ বছর |
| পিতা | মৃত ইব্রাহিম |
| গ্রাম | তুলশীরামপুর, মান্দা, নওগাঁ |
| কর্মস্থল | বি আর সুপার পরিবহন, নওগাঁ |
| মৃতদেহ উদ্ধার সময় | মঙ্গলবার, বেলা ১১টা |
| ঘটনা স্থান | বরুনকান্দি মোড়, নওগাঁ শহর |
| ময়নাতদন্তের স্থান | নওগাঁ জেনারেল হাসপাতাল মর্গ |
| আঘাতের চিহ্ন | নেই |
| মামলা ধরণ | অস্বাভাবিক মৃত্যু মামলা |
প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, মৃত্যু স্বাভাবিক হতে পারে, তবে যেহেতু কোনো প্রকার আঘাতের চিহ্ন নেই, ময়নাতদন্তের ফলাফলের ওপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে। স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে।
জাহিদের পরিবার ও সহকর্মীরা পুলিশ ও হাসপাতালের সহায়তায় দ্রুত সত্য উদঘাটনের প্রত্যাশা করছেন।