খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের লক্ষণ নিয়ে নতুন করে ২১টি শিশু ভর্তি হয়েছে। হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত এই শিশুদের ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে সকলকে হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, ১৭ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট ১৪৩টি শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেলে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে ৬৪ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছেন, এবং বাকি শিশুদের সুস্থ হয়ে বাড়ি পাঠানো হয়েছে।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, “হামে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য গত সোমবার হাসপাতালের ৮ তলার কেবিন এলাকায় ৬৪ শয্যার একটি পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। সেখানে তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে এবং শিশুরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা পাচ্ছে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২১টি শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের মধ্যে বেশির ভাগের বয়স ১ থেকে ১০ বছরের মধ্যে।”
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতি এবং হাসপাতালে ভর্তি শিশুর সংখ্যার সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নরূপ:
| বিষয় | সংখ্যা |
|---|---|
| মোট শিশু ভর্তি (১৭ মার্চ থেকে) | ১৪৩ |
| গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি শিশু | ২১ |
| বর্তমানে চিকিৎসাধীন | ৬৪ |
| মৃত শিশু | ৫ |
| সুস্থ হয়ে বাড়ি পাঠানো শিশু | ৭৪ |
| আইসোলেশন ওয়ার্ড শয্যা সংখ্যা | ৬৪ |
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি সংক্রামক রোগ এবং এটি মূলত শিশুরা বেশি সংক্রামিত হয়। দ্রুত চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ রোগের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। চিকিৎসকরা অভিভাবকদের সতর্ক থাকতে বলেছেন, শিশুরা যদি হামের কোনো লক্ষণ দেখায়—যেমন জ্বর, বমি, ডায়রিয়া বা শারীরিক দুর্বলতা—তাদের দ্রুত হাসপাতালে আনা উচিত।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রশাসন এবং চিকিৎসকরা বলছেন, শহর এবং আশেপাশের এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত স্বাস্থ্য সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি আইসোলেশন ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত শয্যা ও চিকিৎসক-নার্সিং টিম রাখা হয়েছে, যাতে আক্রান্ত শিশুরা সময়মতো সেবা পেতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছেন যে, অভিভাবকরা শিশুদের পানীয় ও খাবারে শুদ্ধ পানি এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বিশেষ মনোযোগ দিন।
এই পরিস্থিতি শিশুদের স্বাস্থ্য রক্ষা এবং হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত প্রচেষ্টার গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করে তুলে ধরেছে।