খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
বরিশাল: বরিশালের চরমোনাই সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীতে নোঙর করা মহল্লার বিলাসবহুল লঞ্চ এমভি কীর্তনখোলা-১০-এর কেবিনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে লঞ্চের তৃতীয় তলায় থাকা ৩২৫ নম্বর কেবিন থেকে ধোয়া বের হতে দেখেন লঞ্চের স্টাফরা। ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে তারা কেবিনের জানালার গ্লাস ভেঙে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
লঞ্চ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুন লাগার সময় কেবিনে কেউ উপস্থিত ছিলেন না, তাই কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে শর্ট সার্কিট বা মশার কয়েল ও অন্যান্য জ্বালানির কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। লঞ্চের ব্যবস্থাপক বেল্লাল হোসেন বলেন, “স্টাফদের দ্রুত হস্তক্ষেপ না হলে এ ঘটনা বড় ধরনের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে রূপ নিতে পারত।”
লঞ্চটি ঢাকা থেকে চরমোনাই মাহফিলের মুসল্লিদের বহনের জন্য এসেছে এবং মাহফিল চলাকালীন কীর্তনখোলা নদীতে নোঙর করা হয়েছিল। মুসল্লিরা কেবিনে আসা-যাওয়া করায় সম্ভবত কেবিনের মধ্যে কিছু জ্বালানি বস্তু রাখা হয়েছিল, যা আগুনের এক প্রাথমিক কারণ হতে পারে।
স্টাফরা জানিয়েছেন, আগুনে কেবিনের ভেতরের আসবাবপত্র, বিছানার তোষক, বালিশ, ফ্যান এবং মুসল্লিদের মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে আশপাশের কেবিনগুলো অক্ষত রয়েছে।
লঞ্চ ব্যবস্থাপক বেল্লাল হোসেন বলেন, “কেবল ৩২৫ নম্বর কেবিনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে দ্রুত হস্তক্ষেপের কারণে পুরো লঞ্চের নিরাপত্তা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে। আগুনের প্রকৃত কারণ নির্ধারণে যাত্রী ও স্টাফদের সঙ্গে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।”
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৮টার দিকে তৃতীয় তলায় ধোয়া দেখতে পেয়ে স্টাফরা তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কেবিনের দরজা খোলার চেষ্টা করেন। পরে জানালার গ্লাস ভেঙে পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| লঞ্চের নাম | এমভি কীর্তনখোলা-১০ |
| ঘটনার স্থান | চরমোনাই সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদী, বরিশাল সদর উপজেলা |
| সময় | ১ এপ্রিল, রাত ৮টা |
| ক্ষতিগ্রস্ত কেবিন | ৩২৫ নম্বর |
| আগুনের সম্ভাব্য কারণ | শর্ট সার্কিট, মশার কয়েল বা অন্যান্য জ্বালানি |
| হতাহতের সংখ্যা | কেউ আহত হয়নি |
| ক্ষতির ধরন | আসবাবপত্র, বিছানার তোষক, বালিশ, ফ্যান, যাত্রী মালামাল |
| লঞ্চের অন্যান্য কেবিন | অক্ষত |
| ব্যবস্থাপক | বেল্লাল হোসেন |
চরমোনাই কীর্তনখোলা-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে স্টাফদের দ্রুত হস্তক্ষেপের কারণে। কেবল ৩২৫ নম্বর কেবিন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও স্থানীয় জনসাধারণ ও যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের মাধ্যমে আগুনের সঠিক কারণ নির্ধারণ করা হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে।
ঘটনাটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় লঞ্চের নিরাপত্তা ও যাত্রী সুরক্ষা নিয়ে সম্প্রদায়ের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে।