মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় সরকার নতুন সময়সূচি ও কৃচ্ছ্রসাধনমূলক নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সরকারি-বেসরকারি অফিস, ব্যাংকিং কার্যক্রম, বাজার-দোকান এবং সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনে জ্বালানি সাশ্রয় ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি অফিস এখন থেকে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে, যা আগের সময়সূচির তুলনায় এক ঘণ্টা কম। ব্যাংকিং লেনদেন চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত এবং ব্যাংকগুলো বিকেল ৪টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে দেশের সব দোকানপাট ও শপিং মল সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে।
তবে জনসাধারণের জরুরি প্রয়োজন বিবেচনায় হোটেল, ফার্মেসি ও কাঁচাবাজারকে এই সময়সীমার বাইরে রাখা হয়েছে। এর ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার সরবরাহ অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সময়সূচির পরিবর্তনের সারসংক্ষেপ
| খাত |
পূর্বের সময়সূচি |
নতুন সময়সূচি |
| অফিস |
৯টা – ৫টা |
৯টা – ৪টা |
| ব্যাংক লেনদেন |
৯টা – ৪টা (প্রায়) |
৯টা – ৩টা |
| ব্যাংক বন্ধ |
৫টার মধ্যে |
৪টার মধ্যে |
| দোকানপাট/মার্কেট |
৮টা পর্যন্ত (ঘোষণা) |
৬টার মধ্যে বন্ধ |
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী তিন মাস কঠোর কৃচ্ছ্রসাধন নীতি অনুসরণ করা হবে। এই সময়ে নতুন কোনো যানবাহন—গাড়ি, জলযান বা আকাশযান—ক্রয় করা হবে না। একই সঙ্গে কম্পিউটার ও প্রযুক্তি সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ব্যয় ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে এবং সরকারি অর্থায়নে বিদেশে প্রশিক্ষণ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
সভা-সেমিনার সংক্রান্ত আপ্যায়ন ব্যয়ও অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে সরকারি ব্যয় ৩০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি ভ্রমণ ব্যয়ও একই হারে কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এমনকি সামাজিক অনুষ্ঠান, বিশেষ করে বিয়ে বা উৎসবে আলোকসজ্জা সীমিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে বিদ্যুৎ খরচ কমানো যায়।
শিক্ষা খাতেও পরিবর্তনের আভাস দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় আংশিক অনলাইন ক্লাস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, সপ্তাহে কিছুদিন অনলাইন এবং কিছুদিন সশরীর ক্লাস পরিচালনার বিষয়টি বিবেচনায় আছে। তবে শিক্ষার ধারাবাহিকতা যেন ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য বিদ্যুৎচালিত বাস ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব বাস বিনা শুল্কে আমদানির সুযোগ দেওয়া হবে, যদিও বাণিজ্যিকভাবে আনলে নির্দিষ্ট শুল্ক আরোপ করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানির ওপর চাপ কমাতে ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে এসব পদক্ষেপ সময়োপযোগী। তবে বাস্তবায়নে কঠোর নজরদারি ও জনসচেতনতা জরুরি। সরকার আশা করছে, সমন্বিতভাবে এই সিদ্ধান্তগুলো কার্যকর হলে বর্তমান সংকট মোকাবিলা সহজ হবে এবং ভবিষ্যৎ ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।