খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
দেশজুড়ে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকলেও আগামী দিনগুলোতে এর তীব্রতা ও বিস্তার আরও বাড়তে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ সংশ্লিষ্ট একটি সংস্থা। বিশেষ করে রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে ইতোমধ্যে যে তীব্র রোদ ও গরম অনুভূত হচ্ছে, তা আরও বিস্তৃত হয়ে ঢাকা, বরিশাল ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার (৩ এপ্রিল) থেকে দেশের অন্তত পাঁচটি বিভাগে তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেতে পারে। একই সঙ্গে নতুন করে কিছু এলাকায় তাপপ্রবাহ সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। এতে দিনের বেলা জনজীবনে অস্বস্তি আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষ করে মধ্যাহ্নের সময়, অর্থাৎ বেলা ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত সূর্যের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি থাকবে। এই সময় সরাসরি রোদের সংস্পর্শে থাকা হিটস্ট্রোকসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই এ সময়টিতে বাইরে চলাচল সীমিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নিম্নের তালিকায় বিভিন্ন অঞ্চলের সম্ভাব্য সর্বোচ্চ তাপমাত্রার একটি ধারণা দেওয়া হলো—
| অঞ্চল/জেলা | সম্ভাব্য তাপমাত্রা | পরিস্থিতি |
|---|---|---|
| চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, যশোর, খুলনা, সাতক্ষীরা, পাবনা, গোপালগঞ্জ, নড়াইল | ৩৭ থেকে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস | তীব্র তাপপ্রবাহ |
| নাটোর, নওগাঁ, দিনাজপুর, রংপুর, গাইবান্ধা, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মাদারীপুর, ঢাকা, বরিশাল, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পিরোজপুর | ৩৬ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস | মাঝারি তাপপ্রবাহ |
তাপমাত্রার এই বৃদ্ধি শুধু গরমের অনুভূতিই বাড়াবে না, বরং কৃষি, শ্রমজীবী মানুষ এবং শহুরে জীবনযাত্রার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। বিশেষ করে খোলা আকাশের নিচে কাজ করা শ্রমিক, রিকশাচালক এবং কৃষকেরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকবেন।
আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ সংস্থাটির মতে, চলমান তাপপ্রবাহ আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে। তবে এর মধ্যে দেশের কিছু কিছু অঞ্চলে হঠাৎ করে বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। এই বৃষ্টিপাত সাময়িকভাবে তাপমাত্রা কিছুটা কমিয়ে স্বস্তি দিতে পারে, তবে তা স্থায়ী নয়।
তীব্র গরমের এ পরিস্থিতিতে জনসাধারণকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। প্রচুর পরিমাণে পানি ও তরল খাবার গ্রহণ, হালকা রঙের সুতি পোশাক পরিধান এবং অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ঘরের ভেতরে বাতাস চলাচল নিশ্চিত করা এবং সরাসরি রোদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা জরুরি বলে জানানো হয়েছে। তাপমাত্রা আরও বাড়লে হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা ও শারীরিক দুর্বলতার ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে, যা সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে।
সব মিলিয়ে, আগামী কয়েক দিন দেশের বড় অংশজুড়ে গরমের তীব্রতা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকবে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।