খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬
চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে দেশের সকল মার্চেন্ট পয়েন্টে কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেনের জন্য বাংলা কিউআর কোড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংক, মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য লেনদেন অপারেটররা শুধু বাংলা কিউআর ব্যবহার করবে; অন্য কোনো কিউআর কোড অনুমোদিত হবে না।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ৩০ জুনের মধ্যে সমস্ত মার্চেন্টকে নিজের স্বতন্ত্র কিউআর কোডের পরিবর্তে বাংলা কিউআর কোড ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেনের প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধান, লেনদেনের পারস্পরিক কার্যকারিতা (ইন্টারঅপারেবিলিটি) নিশ্চিত করা এবং ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা বৃদ্ধিও এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বলেছেন, নগদ লেনদেন কমিয়ে ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানো এবং দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও সুরক্ষিত করার জন্য বাংলা কিউআর কোড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মার্চেন্ট পয়েন্টে বাংলা কিউআর কোড ছাড়া কোনো লেনদেন বা ক্যাশআউট হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কিউআর কোড বাতিল করা হবে।
দেশের শীর্ষস্থানীয় এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিমধ্যেই প্রায় ১০ লাখের বেশি মার্চেন্ট পয়েন্টে নিজস্ব কিউআর কোড ব্যবহার করছে। এবার এই সকল প্রতিষ্ঠানকে তাদের বর্তমান কিউআর কোড বাংলা কিউআর কোডে রূপান্তর করতে হবে। প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, পুরো প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ এবং এতে কিছু খরচও জড়িত।
২০২৩ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রথমবার ১ হাজার ২০০ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে বাংলা কিউআর কোডের আওতায় এনেছিল। পূর্বের প্রয়াস পুরোপুরি সফল না হওয়ায় এবার বাধ্যতামূলক করার মাধ্যমে দেশের সব মার্চেন্ট পয়েন্টে সমন্বিত বাংলা কিউআর কোড চালু করা হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সমন্বিত বাংলা কিউআর কোড চালু হলে এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোকে লেনদেন ভাগাভাগি করতে হবে। ফলে কিছু প্রতিষ্ঠান এখনও সরাসরি অংশ নিতে অনিচ্ছুক। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি প্রণোদনা দেয়, তাহলে এই বাধা কমানো সম্ভব।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠান এই নিয়ম অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| কার্যকরী তারিখ | জুলাই ২০২৬ |
| লক্ষ্য | দেশের সকল মার্চেন্ট পয়েন্ট |
| প্রাথমিক প্রয়োগ | ১,২০০ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী (২০২৩) |
| বর্তমান ব্যবহারকারী | ১০ লাখের বেশি মার্চেন্ট পয়েন্ট |
| প্রধান উদ্দেশ্য | নগদ লেনদেন হ্রাস, ডিজিটাল লেনদেন বৃদ্ধি |
| শাস্তিমূলক ব্যবস্থা | অমান্য করলে কিউআর কোড বাতিল ও আইনানুগ ব্যবস্থা |
বাংলা কিউআর কোডের বাধ্যতামূলক প্রয়োগ দেশের ডিজিটাল লেনদেনকে আরও সহজ, সুরক্ষিত ও সমন্বিত করবে। এটি নাগরিক এবং ব্যবসায়ীদের জন্য লেনদেনের প্রক্রিয়াকে দ্রুত, স্বচ্ছ ও সুবিধাজনক করে তুলবে।