খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের পর এক প্রসূতির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) দিবাগত রাতে নবীনগর পৌর এলাকার আহমেদ প্রাইভেট হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার কারণে ওই তরুণী প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
নিহত প্রসূতির নাম রাকিবা আক্তার (১৮)। তিনি নবীনগর উপজেলার লাউর ফতেহপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শফিকুল ইসলামের স্ত্রী। তাঁর পিতার নাম মিজান মিয়া এবং মাতার নাম রেহেনা আক্তার।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, প্রসববেদনা শুরু হলে রাকিবা আক্তারকে দ্রুত আহমেদ প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ডা. সৈয়দ কামরুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে তাঁর সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন করা হয়। অপারেশনের কিছু সময় পরই রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে বলে স্বজনদের দাবি।
পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীর প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে স্বজনদের যথাযথভাবে অবহিত করেনি বলে অভিযোগ ওঠে। বরং তড়িঘড়ি করে একটি অ্যাম্বুলেন্স ডেকে রোগীকে অন্যত্র স্থানান্তরের চেষ্টা করা হয়। এ সময়ই রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেন স্বজনরা।
নিহতের মা রেহেনা আক্তার আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জানান, অ্যাম্বুলেন্সে তোলার সময়ই তাঁর সন্দেহ হয়। কাছে গিয়ে তিনি দেখতে পান, তাঁর মেয়ের শরীরে কোনো শ্বাস-প্রশ্বাস নেই। তখনই তিনি বুঝতে পারেন অপারেশনের পরই তাঁর মেয়ের মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনার পরপরই স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। রবিবার (৫ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে তারা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ভাঙচুর চালান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নবীনগর থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যবস্থা নেয় এবং পরিস্থিতি শান্ত করে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নাম | রাকিবা আক্তার |
| বয়স | ১৮ বছর |
| স্বামী | শফিকুল ইসলাম |
| পিতা | মিজান মিয়া |
| মাতা | রেহেনা আক্তার |
| ঠিকানা | লাউর ফতেহপুর ইউনিয়ন, নবীনগর |
| চিকিৎসা স্থান | আহমেদ প্রাইভেট হাসপাতাল |
| চিকিৎসা পদ্ধতি | সিজারিয়ান অপারেশন |
| সময় | ঘটনা |
|---|---|
| প্রসববেদনা শুরু | রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় |
| রাতের সময় | সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন |
| অপারেশনের পরপরই | অবস্থার অবনতি শুরু হয় |
| কিছুক্ষণ পর | অ্যাম্বুলেন্সে স্থানান্তরের চেষ্টা |
| ভোরের দিকে | রোগীর মৃত্যু নিশ্চিত হয় বলে অভিযোগ |
| সকাল ১০টা | স্বজনদের হাসপাতাল ভাঙচুর |
| পরে | পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে |
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) রাজীব কান্তি নাথ জানান, প্রাথমিক অভিযোগের ভিত্তিতে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে এবং প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে পুরো ঘটনায় এলাকায় শোক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দাবি করেছেন, বেসরকারি হাসপাতালগুলোর চিকিৎসা মান নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা আর না ঘটে।