খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 28শে মাঘ ১৪৩২ | ১০ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট আসিফ মাহতাব উৎস সোমবার এক ভিডিও বার্তায় ঘোষণা করেছেন যে আসন্ন গণভোটে তিনি ‘না’ ভোট দেবেন। ভিডিওবার্তায় তিনি জানিয়েছেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে অনলাইনে সক্রিয় না থাকার কারণে সরাসরি অনেক মানুষের প্রশ্নের জবাব দিতে পারেননি। তবে সম্প্রতি প্রচুর মানুষের বার্তা পাওয়ার পর তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তার ভোটের সিদ্ধান্ত হলো ‘না’।
আসিফ মাহতাব বলেন, “আপনাদের মধ্যে অনেকেই জানতে চেয়েছেন, আমি জুলাই সনদে ‘হ্যাঁ’ দেব নাকি ‘না’। আমি ব্যক্তিগতভাবে অনলাইনে এত সক্রিয় নই। তবে যেহেতু আপনাদের অনেকের প্রশ্ন এসেছে, তাই আমি বলছি— আমি ‘না’ ভোট দেব।”
তিনি সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করেছেন কেন এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। তার মতে, জুলাই সনদের ৮৪ নং ধারায় বলা হয়েছে যে, সনদ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ ‘ওপেন গভর্নমেন্ট পার্টনারশিপে’ (OGP) যোগ দেবে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “ওপেন গভর্নমেন্ট পার্টনারশিপ আসলে কী এবং এর সঙ্গে আমরা যে আন্দোলন করেছি তার কি কোনো সম্পর্ক আছে? আমরা কি OGP-এ যোগ দেওয়ার জন্য আন্দোলন করেছি?”
আসিফ মাহতাব আরও বলেন, OGP মূলত ‘এলজিবিটিকিউ অধিকার’ (LGBTQ rights) বাস্তবায়নের পক্ষে কাজ করে। তিনি উল্লেখ করেন, “যদি জুলাই সনদ পাশ হয়, তবে বলা হবে সনদ অনুমোদিত হয়েছে, আপনাদের এখন এলজিবিটিকিউ অধিকার কার্যকর করতে হবে। আমি কখনো ওপেন সোসাইটির জন্য এই ধরনের সংগ্রাম করি নি, এবং আপনি নিজেও করেন নি। কিন্তু ভোট দেওয়ার পর এগুলো কার্যকর করা হবে।”
নিচের টেবিলে তার বক্তব্যের মূল দিকগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | আসিফ মাহতাবের বক্তব্য | মন্তব্য |
|---|---|---|
| ভোটের সিদ্ধান্ত | ‘না’ ভোট | ব্যক্তিগত নীতির ভিত্তিতে |
| জুলাই সনদ ধার্য | ৮৪ নম্বর ধারা | ওপেন গভর্নমেন্ট পার্টনারশিপে যোগের শর্ত |
| OGP কার্যক্রম | এলজিবিটিকিউ অধিকার বাস্তবায়ন | আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্ক নেই |
| অনলাইন সক্রিয়তা | সীমিত | বড় সংখ্যক মানুষের প্রশ্নের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত প্রকাশ |
| নীতিগত প্রতিক্রিয়া | নিজের মতামত | ভোটের মাধ্যমে বাধ্যতামূলক প্রয়োগের বিরোধিতা |
আসিফ মাহতাবের এই ঘোষণা রাজনৈতিক এবং সামাজিকভাবে আলোচিত হওয়ার যোগ্য। তিনি গণভোটের প্রেক্ষাপটে নাগরিকদের স্বাধীন মত প্রকাশের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন। তার বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে, তিনি ভোটাধিকারের মাধ্যমে কোনো নীতি বা আন্দোলনকে চাপিয়ে দেওয়ার বিরোধিতা করছেন এবং নাগরিকদের স্বতন্ত্র ও সচেতন ভোটের গুরুত্বের প্রতি সতর্কতা জ্ঞাপন করেছেন।