খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
চট্টগ্রামে দীর্ঘ ১৮ বছর পর আলোচিত শিক্ষার্থী ফসিউর রহমান শাওন হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। রায়ে পাঁচজন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং আরও ১০ জনকে অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে। এ রায়কে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহল সৃষ্টি হয়।
রবিবার (৫ এপ্রিল) বিকেলে ষষ্ঠ অতিরিক্ত চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আলী আক্কাস এই রায় ঘোষণা করেন। মামলার দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের ভিত্তিতে আদালত এ সিদ্ধান্তে পৌঁছায়।
| দণ্ড/অবস্থা | নাম |
|---|---|
| মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত | মো. বেল্লাল হোসেন |
| মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত | জাকির হোসেন |
| মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত | শহীদ রাজা |
| মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত | আল আমিন গাজী (পলাতক) |
| মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত | মো. সোহেল (পলাতক) |
| খালাসপ্রাপ্ত | ১০ জন অন্যান্য আসামি |
আদালত প্রত্যেক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে অতিরিক্ত ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানাও করেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে আল আমিন গাজী ও মো. সোহেল বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ফসিউর রহমান শাওন (২৭) একজন শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০০৭ সালের ২৪ জুলাই বিকেল ৫টার দিকে তিনি বাসা থেকে বের হন জিইসি মোড়ে অবস্থিত একটি কোচিং সেন্টারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে তিনি আর বাসায় ফেরেননি।
পরবর্তীতে একই দিন রাত আনুমানিক ৮টার দিকে চট্টগ্রামের বাদশা মিয়া রোড এলাকায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে তার গলায় গামছা পেঁচানো ছিল এবং শরীরজুড়ে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়, যা হত্যার নির্মমতা স্পষ্ট করে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে আসামিরা শাওনের ওপর হামলা চালায় এবং গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করে। পুলিশ অভিযোগপত্র দাখিল করার পর ২০১১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয় এবং বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।
দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই মামলায় বিভিন্ন পর্যায়ে সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন, জেরা এবং যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায় ঘোষণা করেন। প্রায় দেড় দশকের বেশি সময় ধরে বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান থাকায় এটি চট্টগ্রামের আলোচিত ও দীর্ঘসূত্রিতাপূর্ণ মামলাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, উপস্থাপিত সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে পাঁচজন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। ফলে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়। অন্যদিকে পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে বাকি ১০ জনকে খালাস দেওয়া হয়।
এই রায় ঘোষণার পর আদালত এলাকাজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। নিহতের পরিবার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও দীর্ঘ সময় লাগার বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষও প্রকাশ করেছে।
প্রায় দুই দশক পুরোনো এই হত্যাকাণ্ডের রায় চট্টগ্রামের বিচারব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা একই সঙ্গে ন্যায়বিচারের দীর্ঘ যাত্রার প্রতিফলনও বলে মনে করছেন আইনজীবীরা।