খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 28শে আষাঢ় ১৪৩২ | ১২ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রাজধানীর পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে লাল চাঁদ ওরফে মো. সোহাগ (৩৯) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আসামি তারেক রহমান রবিন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। একইসঙ্গে হত্যা মামলায় টিটন গাজী নামে আরও এক আসামিকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১২ জুলাই) পুলিশ রবিন এবং টিটনকে আদালতে হাজির করে। দুই দিনের রিমান্ড শেষে রবিন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হন, এবং তা রেকর্ড করার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার এসআই মো. মনির। অন্যদিকে, টিটন গাজী এর সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার জন্য আরেক তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর নাসির উদ্দিন আবেদন করেন।
ঢাকার মহানগর হাকিম হাসিব উল্লাহ গিয়াস রবিনের স্বীকারোক্তি রেকর্ড করেন এবং পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে, টিটন গাজীর ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
গত বুধবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটের সামনে সোহাগকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। সোহাগকে পিটিয়ে, কুপিয়ে এবং পাথর নিক্ষেপ করে প্রকাশ্যে খুন করা হয়। পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিল সোহাগের পুরোনো ব্যবসায়ী সহকর্মীরা এবং তাদের মধ্যে ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল।
এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়—একটি হত্যা মামলা এবং অপরটি অস্ত্র মামলা। পুলিশ গ্রেপ্তার করে মাহমুদুল হাসান মহিন এবং তারেক রহমান রবিন। এর মধ্যে রবিন অস্ত্র মামলায় এবং মহিন হত্যা মামলায় রিমান্ডে আছেন।
নিহত সোহাগ কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পূর্ব নামাবাড়ি গ্রামের ইউসুফ আলী হাওলাদারের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মিটফোর্ড এলাকায় ভাঙারি ব্যবসা করতেন। ঘটনার পর, মাহমুদুল হাসান মহিন ও তারেক রহমান রবিন গ্রেপ্তার হন এবং তাদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় দুটি মামলা দায়ের হয়। হত্যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে সোহাগকে হত্যার বিস্তারিত দৃশ্য দেখা যায়। এই ঘটনা ফেসবুকে ব্যাপক আলোচনা ও নিন্দার জন্ম দিয়েছে।
পুলিশ এ ঘটনায় দ্রুত কার্যক্রম চালাচ্ছে এবং মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য বেশ কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। তদন্ত এখনও চলছে, এবং অন্যান্য জড়িতদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
খবরওয়ালা/আরডি