মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার ধারাবাহিকতায় এবার সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে বড় ধরনের নিরাপত্তা সংকট তৈরি হয়েছে, যার ফলে গুরুত্বপূর্ণ তেল উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। সাম্প্রতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের তেল ও গ্যাস অবকাঠামোতে ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তেহরান উপসাগরীয় অঞ্চলের সেইসব দেশ ও স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে, যেগুলো ওয়াশিংটন ও তেল আবিবকে সহযোগিতা করছে বলে দাবি করা হয়।
আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটির পূর্বাঞ্চলে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। এই অঞ্চলে সৌদির প্রায় ৭০ শতাংশ তেল স্থাপনা অবস্থিত হওয়ায় এটি দেশটির অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচিত। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ধ্বংস করার পর সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ তেলক্ষেত্রের আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় এবং উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
এর কিছুক্ষণ পর পূর্বাঞ্চলে পুনরায় সতর্ক সংকেত জারি করা হলে কিং ফাহাদ সেতুতে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই সেতুটি সৌদি আরবকে বাহরাইনের সঙ্গে যুক্ত করে এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অবকাঠামো।
এর আগে ইরানের একটি সামরিক স্থাপনায় হামলার পর দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে একটি সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকা প্রকাশ করা হয়, যেখানে উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেতুর নাম উল্লেখ করা হয়। ওই তালিকায় কিং ফাহাদ সেতুর পাশাপাশি কুয়েতে অবস্থিত শেখ জাবের কজওয়ের নামও ছিল, যা মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘতম সেতুগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত।
একই দিনে বাহরাইনে একাধিকবার সতর্ক সংকেত বেজে ওঠে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতেও নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় উপসাগরীয় অঞ্চলের আকাশ ও স্থল নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও দাবি করেছে, মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে অন্তত ১৮টি ড্রোন হামলা প্রতিহত করা হয়েছে। তবে এসব ঘটনার কারণে সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি চাপের মধ্যে রয়েছে।
নিচে সাম্প্রতিক প্রধান ঘটনাগুলোর সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো—
| সময়/তারিখ |
ঘটনা |
স্থান |
ফলাফল |
| ৭ এপ্রিল সকাল |
ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ও প্রতিরোধ |
সৌদি পূর্বাঞ্চল |
ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস, তেল উৎপাদন বন্ধ |
| ৭ এপ্রিল সকাল |
ড্রোন হামলার চেষ্টা |
সৌদি আরব |
১৮টি ড্রোন প্রতিহত |
| ৭ এপ্রিল সকাল |
সতর্ক সংকেত ও যান চলাচল বন্ধ |
কিং ফাহাদ সেতু |
সাময়িকভাবে যোগাযোগ বন্ধ |
| সমসাময়িক |
আঞ্চলিক সতর্কতা জারি |
বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত |
নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার |
বিশ্লেষকদের মতে, এই পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে তা আরও বিস্তৃত সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।