খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ডাকা সালিস বৈঠকে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটে। ঘটনায় মোহাম্মদ আলী (৬৫) নামে একজন বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত ছিল এবং প্রশাসন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করছে।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার বুল্লা গ্রামের মোহাম্মদ আলী দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী সানু মিয়ার ছেলে কামাল মিয়ার সঙ্গে জমিজমা নিয়ে বিরোধে জড়িত ছিলেন। এই বিরোধ মীমাংসার জন্য সোমবার বিকেলে স্থানীয় সালিশ কমিটি একটি বৈঠক ডেকে অতিথিদের আহ্বান জানায়।
বৈঠকের সময় উভয় পক্ষের মধ্যে প্রাথমিক কথাকাটাকাটি দ্রুত উত্তেজনায় রূপ নেয়। পরে দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে উভয় পক্ষ একে অপরের ওপর হামলা চালায়। সংঘর্ষের ফলে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন, এর মধ্যে কিছু ব্যক্তির অবস্থা গুরুতর।
মোহাম্মদ আলীকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. সোহেল রানা বলেন, “ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত চলছে।”
তিনি আরও জানিয়েছেন, এ ঘটনায় কোনও মামলা দায়ের হয়নি, তবে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| মৃত ব্যক্তির নাম | মোহাম্মদ আলী |
| বয়স | ৬৫ বছর |
| সংঘর্ষের কারণ | জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ |
| সংঘর্ষের স্থান | মাধবপুর উপজেলা, বুল্লা গ্রাম |
| আহত ব্যক্তির সংখ্যা | ৩০ জন |
| গুরুতর আহত | কয়েকজন |
| হাসপাতালে পাঠানো | ঢাকা মেডিকেল কলেজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল |
| পুলিশি ব্যবস্থা | অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, পরিস্থিতি শান্ত |
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সালিস বৈঠক সাধারণত শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ মীমাংসার জন্য ডাকা হলেও দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং উত্তেজনাপূর্ণ কথাবার্তার কারণে তা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। ঘটনার পর গ্রামের মানুষজন দুশ্চিন্তায় এবং শোকাহত।
স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক করে জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এমন সালিস বৈঠক বা জমিজমা বিরোধ নিষ্পত্তিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে। ইউনিয়ন পর্যায়ে পুলিশি উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং তল্লাশি চালিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
মোটকথা, জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ এবং নিরাপত্তা ঘাটতির কারণে সালিস বৈঠক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়, যেখানে এক বৃদ্ধ নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। এটি স্থানীয় সমাজে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি এবং বিরোধ নিষ্পত্তির গুরুত্ব আবারও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।