খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 27শে চৈত্র ১৪৩২ | ১০ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
লক্ষ্মীপুরে পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে ফরহাদ হোসেন (৩০) নামে এক যুবককে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। হত্যাকাণ্ডের পর তার ডান চোখ উপড়ে ফেলা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যা ঘটনাটিকে আরও ভয়াবহ ও রহস্যজনক করে তুলেছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার তেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়নের পূর্ব চরমনসা গ্রামের একটি ফসলি খেত থেকে স্থানীয়রা তার মরদেহ দেখতে পান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।
নিহত ফরহাদ হোসেন ওই গ্রামের দিদার হোসেনের ছেলে। তিনি পেশায় অটোরিকশা চালক ছিলেন এবং এক সন্তানের জনক ছিলেন। জীবিকার তাগিদে তিনি নিয়মিত এলাকায় যাত্রী পরিবহন করতেন বলে পরিবার জানিয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, একটি পূর্বপরিচিত ব্যক্তি পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) গভীর রাতে ফরহাদকে মোবাইল ফোনে ডেকে নেয়। রাত আনুমানিক ২টার দিকে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। এরপর তিনি আর ফিরে আসেননি। ভোরে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন সকালে বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরের একটি ফসলি খেতে তার মরদেহ পাওয়া যায়।
স্থানীয়দের ধারণা, টাকার লেনদেন বা পূর্বশত্রুতার জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হতে পারে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নাম | ফরহাদ হোসেন |
| বয়স | ৩০ বছর |
| পেশা | অটোরিকশা চালক |
| ঠিকানা | পূর্ব চরমনসা, তেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়ন |
| পারিবারিক অবস্থা | বিবাহিত, এক সন্তানের জনক |
| ঘটনার সময় | ৯ এপ্রিল গভীর রাত |
| মরদেহ উদ্ধার | ১০ এপ্রিল সকাল |
| স্থান | পূর্ব চরমনসা গ্রামের ফসলি খেত |
নিহতের স্ত্রী নার্গিস বেগম বলেন, গভীর রাতে এক ব্যক্তি পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে ফোন করে ফরহাদকে ডেকে নেয়। এরপর তিনি আর বাসায় ফেরেননি। সকালে খোঁজ নিতে গিয়ে জানা যায়, গ্রামের পাশের একটি খেতে তার মরদেহ পড়ে আছে। তিনি দাবি করেন, টাকার বিষয়কে কেন্দ্র করেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা দ্রুত পুলিশকে খবর দিলে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক মো. আমিনুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি একটি হত্যাকাণ্ড বলেই ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।
এদিকে, হত্যাকাণ্ডের ধরন ও নির্মমতা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে চোখ উপড়ে ফেলার মতো নৃশংসতা ঘটনাটিকে আরও আলোচিত ও ভয়াবহ করে তুলেছে। এলাকাবাসী দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ বলছে, মোবাইল ফোন কল রেকর্ড, আর্থিক লেনদেন এবং স্থানীয় বিরোধ—সব দিক বিবেচনা করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ ও হত্যাকারীদের পরিচয় উদঘাটন করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।