কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শীলখালী এলাকায় প্রাইভেটকারযোগে মাদক পাচারের সময় বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ তিনজন মাদক পাচারকারীকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ। উদ্ধার করা ইয়াবার পরিমাণ প্রায় বিয়াল্লিশ হাজার পিস বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন পুরুষ ও দুইজন নারী রয়েছেন।
শুক্রবার ভোরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি শীলখালী এলাকায় একটি অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে। টেকনাফ থেকে কক্সবাজারগামী একটি প্রাইভেটকার সেখানে পৌঁছালে সেটিকে থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির সময় গাড়ির তেলের ট্যাংকের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকানো অবস্থায় ইয়াবার পোটলাগুলো উদ্ধার করা হয়। মোট একুশটি পোটলায় এসব মাদক রাখা ছিল।
আটক ব্যক্তিরা হলেন টেকনাফ উপজেলার উত্তর পাড়া এলাকার মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে মাসুদ শরিফ, কক্সবাজার সদর উপজেলার সমিতিপাড়া এলাকার মৃত সফিকুল ইসলামের মেয়ে বিউটি এবং একই এলাকার আব্দুর রশিদের মেয়ে মাহিম। তাদের বয়স যথাক্রমে বাইশ, সাতাশ এবং উনিশ বছর বলে জানা গেছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা স্বীকার করেছে যে, তারা টেকনাফ এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে কক্সবাজার শহর ও আশপাশের এলাকায় বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিল। দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি চক্র এই ধরনের পরিবহন কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
অভিযানের সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত প্রাইভেটকার এবং তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। এসব মোবাইল ফোনের মাধ্যমে চক্রের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হতো বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইতিমধ্যে পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্তে তদন্ত শুরু করেছে।
বিজিবি জানায়, সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার রোধে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে টেকনাফ সীমান্তকে কেন্দ্র করে ইয়াবা পাচারের বিভিন্ন রুট শনাক্ত করে সেগুলোতে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে তাদের টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হবে।
এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও স্পষ্ট হয়েছে যে, সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে মাদক পাচার একটি সংগঠিত চক্রের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। তরুণদের ব্যবহার করে এসব চক্র তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, শুধু আটক নয়, পুরো চক্রকে শনাক্ত ও নির্মূল করাই এখন মূল লক্ষ্য।
নিচে ঘটনার প্রধান তথ্যগুলো সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| অভিযান পরিচালনাকারী সংস্থা | বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ |
| স্থান | শীলখালী, টেকনাফ, কক্সবাজার |
| আটক ব্যক্তির সংখ্যা | ৩ জন |
| আটককৃতদের পরিচয় | ১ জন পুরুষ, ২ জন নারী |
| উদ্ধারকৃত মাদক | প্রায় ৪২ হাজার পিস ইয়াবা |
| লুকানোর স্থান | প্রাইভেটকারের তেলের ট্যাংক |
| উদ্ধার পদ্ধতি | অস্থায়ী চেকপোস্টে তল্লাশি |
| জব্দকৃত সামগ্রী | প্রাইভেটকার ও মোবাইল ফোন |
| পরবর্তী পদক্ষেপ | আইনগত প্রক্রিয়া শেষে থানায় হস্তান্তর |
এই অভিযানকে মাদকবিরোধী কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখছে স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী।



