খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
দেশে হাম ও হামের উপসর্গজনিত জটিলতায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একজন শিশুর মৃত্যু সরাসরি হামজনিত বলে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বাকি আটটি শিশুর মৃত্যু হামের উপসর্গ—যেমন জ্বর, তীব্র শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া বা জটিল সংক্রমণ—এর সঙ্গে সম্পর্কিত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়, একই সময়সীমায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ৬৯৮ জন শিশু ভর্তি হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে। পাশাপাশি পরীক্ষাগারে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে ১৭৬ জনের মধ্যে। এই পরিসংখ্যান গতকাল সকাল ৮টা থেকে আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার তথ্যকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের সংক্রমণ সাধারণত দ্রুত ছড়ায় এবং শিশুদের মধ্যে জটিলতা তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে যারা টিকা গ্রহণ করেনি বা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, মস্তিষ্কের প্রদাহসহ মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন জেলায় হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় হাসপাতালে রোগীর চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শিশু ওয়ার্ডগুলোতে অতিরিক্ত রোগী ভর্তি হওয়ায় চিকিৎসাসেবা দিতে চিকিৎসক ও নার্সদেরও বাড়তি চাপ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
হাম সাধারণত একটি ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ, যা হাঁচি-কাশির মাধ্যমে দ্রুত ছড়ায়। প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সময়মতো দুই ডোজ টিকা গ্রহণ। তবে কিছু এলাকায় টিকাদানের হার কম থাকায় সেখানে সংক্রমণ বেশি ছড়াচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, শিশুদের মধ্যে জ্বর, চোখ লাল হওয়া, শরীরে র্যাশ বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যেতে। পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুদের আলাদা রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে, যাতে রোগটি অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে না পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
নিচে ২৪ ঘণ্টার পরিস্থিতির একটি সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো—
| সূচক | সংখ্যা |
|---|---|
| মোট মৃত্যুর সংখ্যা | ৯ জন শিশু |
| নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু | ১ জন |
| হামের উপসর্গজনিত মৃত্যু | ৮ জন |
| নতুন হাসপাতালে ভর্তি | ৬৯৮ জন শিশু |
| নিশ্চিত হামে আক্রান্ত | ১৭৬ জন |
বর্তমান পরিস্থিতি জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, দ্রুত টিকাদান বৃদ্ধি, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার সমন্বয় ছাড়া সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।