খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
রাজধানীর অভিজাত এলাকা বনানীতে একটি বহুতল ভবনের শীর্ষতলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আজ বুধবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৩০ মিনিটে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বনানী কাঁচাবাজার সংলগ্ন ১২ নম্বর রোডের ৪৪ নম্বর হোল্ডিংয়ের একটি ১১ তলা ভবনের সর্বশেষ তলায় আগুন লাগে।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়। ফায়ার সার্ভিস মিডিয়া সেলের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৬টা ৪৩ মিনিটে বারিধারা ফায়ার স্টেশন থেকে প্রথম দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আগুনের তীব্রতা বিবেচনায় পরবর্তীতে কুর্মিটোলা ও পার্শ্ববর্তী স্টেশন থেকে আরও তিনটি ইউনিট উদ্ধারকাজে যোগ দেয়। বর্তমানে মোট ৫টি ইউনিটের প্রচেষ্টায় আগুন নির্বাপণের কাজ চলমান রয়েছে।
নিচে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার প্রাথমিক তথ্যাবলি সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| ঘটনাস্থল | ৪৪ নম্বর বাসা, রোড ১২, বনানী (কাঁচাবাজার সংলগ্ন) |
| ভবনের ধরণ | ১১ তলা বিশিষ্ট বহুতল ভবন |
| আগুনের সূত্রপাত | বুধবার, সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট (আনুমানিক) |
| প্রথম ইউনিটের উপস্থিতি | সন্ধ্যা ৬টা ৪৩ মিনিট |
| বর্তমান ইউনিটের সংখ্যা | ৫টি (বারিধারা ও অন্যান্য স্টেশন) |
| আগুনের অবস্থান | ভবনের ১১ তলা (শীর্ষতলা) |
ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ভবনের ওপরের তলায় পৌঁছানোর জন্য ল্যাডার (মই) এবং আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করছেন। ঘনবসতিপূর্ণ এবং বাণিজ্যিক এলাকা হওয়ায় আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিরাপত্তার খাতিরে ওই সড়কের যান চলাচল সীমিত করেছেন এবং উৎসুক জনতাকে সরিয়ে দিচ্ছেন।
ভবনটি বাণিজ্যিক না আবাসিক, সে বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো সুনির্দিষ্ট ঘোষণা আসেনি। তবে প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের সময় ভবনের ভেতরে কেউ আটকা পড়েছেন কি না বা কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আগুনের ধোঁয়া আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় উদ্ধারকর্মীদের কাজ করতে কিছুটা প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ফায়ার সার্ভিস এখনো কাজ করছে। প্রাথমিক পর্যায়ে আগুন লাগার কারণ হিসেবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট বা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের মতো বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আগুনের লেলিহান শিখা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ এবং স্ট্রাকচারাল ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তথ্য নিরূপণ করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
বনানী এলাকাটি অত্যন্ত জনবহুল এবং এখানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ অফিস ও ভবন থাকায় ফায়ার সার্ভিস শুরু থেকেই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদারকি করছে। অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর একটি তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত উৎস ও নিরাপত্তার ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করা হবে।