খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি করলেও এশিয়া-প্যাসিফিক (এপ্যাক) অঞ্চলের বিমা খাত এখনো তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। আন্তর্জাতিক রেটিং সংস্থা এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল রেটিংসের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরাসরি যুদ্ধের প্রভাব এ অঞ্চলের বিমা কোম্পানিগুলোর ওপর সীমিত হলেও আর্থিক বাজারের অস্থিরতা তাদের জন্য প্রধান ঝুঁকির উৎস হয়ে উঠেছে।
“এশিয়া-প্যাসিফিক ইনস্যুরারস: মার্কেট ভোলাটিলিটি ইজ দ্য লার্জেস্ট ওয়ার-রিলেটেড ইমপ্যাক্ট” শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে। তবে তেলের বাজারে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে এই ঝুঁকি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ রুটে বিঘ্ন সৃষ্টি হলে তার প্রভাব বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এসঅ্যান্ডপি’র ভিত্তি-ধারণা অনুযায়ী, সংঘাতের তীব্রতা এপ্রিল মাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে ধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলো পুনরায় সচল হবে। যদিও কিছু বিঘ্ন কয়েক মাস স্থায়ী হতে পারে, তবুও বিমা কোম্পানিগুলোর বিদ্যমান মূলধনী সুরক্ষা (capital buffer) এই চাপ সামাল দেওয়ার জন্য আপাতত যথেষ্ট বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে সরাসরি ক্ষতির ঝুঁকি পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে সামুদ্রিক ও কার্গো বিমা খাতে কিছু ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ মধ্যপ্রাচ্য হয়ে যাওয়া বাণিজ্যিক রুটগুলোতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যদিও এই খাতটি সামগ্রিক বিমা প্রিমিয়ামের তুলনায় তুলনামূলকভাবে ছোট অংশ, তবুও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে এটি ক্ষতির কারণ হতে পারে।
অন্যদিকে, বৃহত্তর অর্থনৈতিক পরিবর্তনগুলোই বেশি উদ্বেগজনক। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ইতোমধ্যে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে তুলছে এবং সুদের হার বৃদ্ধির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এতে বিমা কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ আয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে এবং পরিচালন ব্যয়ও বাড়ছে।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল রেটিংসের ক্রেডিট বিশ্লেষক ফিলিপ চুং বলেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বিমা কোম্পানিগুলোর জন্য ইনপুট খরচ বৃদ্ধি পাবে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিবেশ দুর্বল হয়ে পড়বে। এর ফলে বিশেষ করে নন-লাইফ বিমা খাতে মোটর, সম্পত্তি ও বাণিজ্যিক দাবির ব্যয় বেড়ে যেতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত গ্রাহকদের জন্য প্রিমিয়াম বৃদ্ধির কারণ হবে।
নিম্নে এপ্যাক অঞ্চলের বিমা খাতে সম্ভাব্য প্রভাবগুলোর একটি সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো—
| প্রভাবের ক্ষেত্র | সম্ভাব্য পরিবর্তন | ফলাফল |
|---|---|---|
| আর্থিক বাজার | অস্থিরতা বৃদ্ধি | বিনিয়োগ আয়ে অনিশ্চয়তা |
| জ্বালানি মূল্য | বৃদ্ধি | মূল্যস্ফীতি ও ব্যয় বৃদ্ধি |
| সুদের হার | ঊর্ধ্বমুখী চাপ | ঋণ ব্যয় বৃদ্ধি |
| সামুদ্রিক ও কার্গো বিমা | সীমিত ক্ষতি | নির্দিষ্ট খাতে দাবি বৃদ্ধি |
| নন-লাইফ বিমা | দাবি ব্যয় বৃদ্ধি | প্রিমিয়াম বাড়ার সম্ভাবনা |
| নিম্ন-আয়ের দেশ | বেশি ঝুঁকিপূর্ণ | অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি |
প্রতিবেদনটি আরও সতর্ক করে বলেছে, যদি সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে বিশেষ করে জ্বালানি আমদানিনির্ভর নিম্ন-আয়ের দেশগুলোতে পরিচালিত বিমা কোম্পানিগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়বে। এসব দেশে অর্থনৈতিক চাপ দ্রুত বাড়তে পারে, যা বিমা খাতের স্থিতিশীলতাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে।
সব মিলিয়ে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বিমা খাত সরাসরি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে না পড়লেও বৈশ্বিক আর্থিক অস্থিরতা এবং জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তা তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলে খাতটি স্থিতিশীল থাকবে, তবে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে ঝুঁকির মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।