খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ সীমান্তে শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুরে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার উত্তর রণিখাই ইউনিয়নের দমদমা সীমান্ত এলাকায় দুই তরুণ বাংলাদেশি গুলিতে নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন দমদমা সীমান্তের পূর্ব তুরুং গ্রামের বুরান উদ্দীনের ছেলে আশিকুর (১৯) এবং একই গ্রামের মৃত রব মিয়ার ছেলে মোশাঈদ (২২)।
বিজিবি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুপুর ১২টার দিকে দমদমা ১২৬০ মেইন পিলারের ২ নং সাব পিলারের ৬০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে পরিহাট এলাকায় কাঠ সংগ্রহ করার সময় আশিকুরকে ভারতীয় খাসিয়ার গুলি করে হত্যা করে। পরে তার স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে বাংলাদেশে নিয়ে আসে এবং লাশ কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে।
সেই একই সময়ে সীমান্তের নিকটবর্তী ভারতের রাদনে এলাকায় মোশাঈদকেও গুলি করে হত্যা করে খাসিয়াররা। নিহত মোশাঈদের লাশ বর্তমানে ভারতের টোকা ক্যাম্পে বিএসএফের হেফাজতে রয়েছে। সূত্র জানায়, ওই ক্যাম্পের বিএসএফ মোবাইল ফোনে বিজিবিকে জানিয়েছে, ‘তোমাদের এক লোক মারা গেছে’।
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, “সীমান্তের ওপারে ভারতীয় খাসিয়ার গুলিতে দুই বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। নিহত আশিকুরের লাশ সঙ্গীয়রা দেশে ফিরিয়ে এনেছেন। অন্য যুবকের লাশ এখনও ভারতের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমরা বিএসএফের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছি যাতে লাশ দেশে আনা যায়।”
এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে। তারা জানান, সীমান্ত এলাকায় প্রায়ই এই ধরনের সংঘর্ষ এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। স্থানীয় প্রশাসন ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি, যাতে কোনো নিরীহ নাগরিকের প্রাণহানি না ঘটে। এছাড়া তারা নাগরিকদেরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, যেন সীমান্ত এলাকা অযথা পরিদর্শন বা ঝুঁকিপূর্ণ কার্যকলাপে অংশ না নেয়া হয়।