গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হাম ও এর উপসর্গজনিত জটিলতায় আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আরও এক হাজার ৩৫৮ জন শিশুর মধ্যে এ রোগের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। সংক্রমণ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকায় স্বাস্থ্য খাতে উদ্বেগ বাড়ছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন বিভাগে ছড়িয়ে থাকা এ সংক্রমণে শিশুদের মধ্যে ঝুঁকি এখনও উচ্চমাত্রায় রয়ে গেছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা ও সিলেট বিভাগে একজন করে মোট চারজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি সিলেট বিভাগে হামে আক্রান্ত হয়ে আলাদাভাবে আরও একজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ফলে ২৪ ঘণ্টায় মোট পাঁচ শিশুর মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে।
নতুন সংক্রমণ ও উপসর্গের চিত্রও উদ্বেগজনক। এই সময়ে সারাদেশে ৯০ জন শিশুর মধ্যে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে এক হাজার ৩৫৮ জন শিশুর মধ্যে এ রোগের উপসর্গ দেখা গেছে। গত ১৫ মার্চ থেকে সোমবার পর্যন্ত দেশে মোট ৩৩ হাজার ৩৮৬ জন শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৬৯৩ জনে।
হাসপাতালে ভর্তি ও সুস্থতার তথ্যও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট ২২ হাজার ৪৪২ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে ১৯ হাজার ১৮ জন শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
বিশেষজ্ঞরা সাধারণত হামকে অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ হিসেবে উল্লেখ করেন, যা শিশুর শরীরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সময়মতো টিকা গ্রহণ না করলে বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল থাকলে এ রোগের জটিলতা বাড়ে। জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখে প্রদাহ ও শরীরে লালচে ফুসকুড়ি এ রোগের সাধারণ উপসর্গ হিসেবে দেখা দেয়।
পরিস্থিতি বিশ্লেষণে সামগ্রিক চিত্র নিচে উপস্থাপন করা হলো—
| সূচক |
সংখ্যা |
| গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু |
৫ জন |
| নতুন শনাক্ত রোগী |
৯০ জন |
| নতুন উপসর্গ শনাক্ত |
১,৩৫৮ জন |
| মোট উপসর্গ (১৫ মার্চ থেকে) |
৩৩,৩৮৬ জন |
| মোট শনাক্ত রোগী |
৪,৬৯৩ জন |
| হাসপাতালে ভর্তি মোট রোগী |
২২,৪৪২ জন |
| সুস্থ হয়ে ছাড়পত্রপ্রাপ্ত |
১৯,০১৮ জন |
স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং হাসপাতালগুলোতে শিশু রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং টিকাদান কার্যক্রমকে আরও সক্রিয় করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে সংক্রমণের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।