হবিগঞ্জ জেলায় হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। জেলার প্রধান চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক সদর হাসপাতালে রোগীর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, বর্তমানে সেখানে ৪১ জন হাম রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। প্রতিদিনই নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় হাসপাতালের স্বাভাবিক সেবা কার্যক্রমে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এ পর্যন্ত মোট ১৯০ জন রোগী হামজনিত উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৩০ জন। তবে জটিলতা দেখা দেওয়ায় ১৯ জন রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে।
রোগীর অবস্থা ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা
চিকিৎসকদের মতে, হামের সংক্রমণ দ্রুত ছড়াতে পারে, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এর ঝুঁকি বেশি থাকে। বর্তমানে হাসপাতালে পৃথক একটি সংক্রামক রোগ ব্যবস্থাপনা ইউনিট চালু করা হয়েছে, যেখানে আক্রান্ত রোগীদের আলাদা করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সংক্রমণ প্রতিরোধে ওই ইউনিটে অপ্রয়োজনীয় প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে এবং কঠোর স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা হচ্ছে।
রোগী সংক্রান্ত পরিসংখ্যান
| বিবরণ |
সংখ্যা |
| মোট চিকিৎসা গ্রহণকারী রোগী |
১৯০ জন |
| বর্তমানে ভর্তি রোগী |
৪১ জন |
| সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা রোগী |
১৩০ জন |
| অন্যত্র স্থানান্তরিত রোগী |
১৯ জন |
| গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি |
১০ জন |
স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগ
জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে, যা গত ২০ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের টিকা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
জেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামের মতো সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে টিকা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্তকরণ এবং তাদের আলাদা করে চিকিৎসা দেওয়ার মাধ্যমে সংক্রমণ বিস্তার অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে শুধু চিকিৎসা নয়, সামাজিক সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। পরিবারের মধ্যে শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করা, আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা প্রয়োজন। তারা আরও বলেন, সময়মতো ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সংক্রমণ দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে, যা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।
বর্তমানে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও চিকিৎসকরা সমন্বিতভাবে কাজ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে অতিরিক্ত প্রস্তুতির প্রয়োজন হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।